জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, আমার দলের সহকর্মীদেরসহ প্রত্যেক গণতান্ত্রিক মানুষের কাছে আমি একটি কথা তুলে ধরতে চাই। আজ আমাদের এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও আমি এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, আমরা যদি একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
তিনি বলেন, আসুন এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক সমাজের একটি অংশ নয়, বরং সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে আমরা এ দেশে ভালো থাকব। আসুন আমরা প্রত্যেকে সহঅবস্থানের মাধ্যমে খারাপকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করি। এটাই হোক আমাদের আজকের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার, প্রত্যাশা ও প্রতিজ্ঞা।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের ৫ জন নিহত
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আপনাদেরই সরকার। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এ দেশের মানুষের নির্বাচিত ও প্রতিষ্ঠিত সরকার। সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। প্রতিনিয়ত সে জন্য আপনাদের এই সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা
মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, তৎকালীন বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। সুতরাং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের যে গৌরবগাঁথা, তা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা চলবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা ঠিক হবে না, যা আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে কোনোভাবে খাটো করতে পারে।
তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ হয়ে যায়। আর অতীতকে যদি আমরা ভুলে যাই, তাহলে আমাদের দু’চোখই অন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং আমরা যেমন অতীতকে ভুলে যাব না, তেমনি অতীত নিয়েই অতিরিক্ত চর্চা আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আপনাদের বক্তব্যে অনেক অজানা তথ্য উঠে এসেছে। এ মঞ্চে উপস্থিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বাইরে থাকা বহু মানুষও আজকের আলোচনা শুনছেন। অনেকেরই হয়তো এসব জানা ছিল না। আজ এখানে আসার সময় আমি দেখেছি, জায়গা সংকুলানের কারণে তরুণ প্রজন্মের অনেক সদস্য ভেতরে ঢুকতে পারেনি। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংক্ষেপে বলতে চাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা হয়েছে, তা থেকেই প্রমাণিত হয় তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র। তিনি হঠাৎ করেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া প্রথম জীবনে রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করতেন—এটি তাঁর লেখাতেই ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতার চিন্তা-চেতনা তিনি ধারণ করতেন এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য তাঁর মানসিক প্রস্তুতি ছিল—এ বিষয়টি তাঁর লেখনী থেকেই স্পষ্ট হয়।
একটি জাতির জন্ম
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার লেখা একটি প্রবন্ধ রয়েছে, যার শিরোনাম একটি জাতির জন্ম। প্রবন্ধটি বেশ বড়। সংক্ষেপে সেখান থেকে কয়েকটি লাইন উল্লেখ করছি, যেখান থেকে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এতে দেখা যায়, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি বহুদিন ধরে লালন করেছেন। তাঁর এই নিবন্ধটি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে এটি ছাপা হয়। নিবন্ধের শেষ অংশে তিনি লিখেছিলেন, তখন রাত ২টা ১৫ মিনিট, ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন এ দিনটিকে স্মরণ রাখবে, ভালোবাসবে, কোনো দিন ভুলবে না।
তিনি বলেন, প্রবন্ধটি প্রকাশের সময় মুক্তিযুদ্ধ সদ্য শেষ হয়েছে। তখন মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত ছিলেন এবং কেউই এ বিষয়ে আপত্তি তোলেননি। পরে ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায়ও এটি প্রকাশিত হয়। তখনও কোনো আপত্তি ওঠেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ ধরে বিশ্বের যেখানে মানুষ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাঁরাই স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারেন। একটু পাশেই তাকালে দেখা যায়, স্বাধীনতার গুরুত্ব ও তাৎপর্য আজও উপলব্ধি করছে ফিলিস্তিনের মানুষ। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ২০২৪ সালে দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা করেছি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাবেদারমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমদ।
আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
বিইউ/এআর