images

জাতীয়

স্বাধীনতা দিবসের আগেই বদলি হয়েছিলেন মহেশপুরের সেই ইউএনও

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের বদলির খবর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক না বলায় তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, সরকারি নথিপত্র বলছে ভিন্ন কথা। 

প্রকৃতপক্ষে, স্বাধীনতা দিবসের এক দিন আগেই অর্থাৎ ২৫ মার্চ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তার বদলির আদেশ জারি করা হয়। শুধু তিনি নয়, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. আমিরুল আরাফাত স্বাক্ষরিত দুটো আদেশে ১০ জন ইউএনওকে বদলি করা হয়। পরে অবশ্য খুলনার তেরখাদায় আরিফুল ইসলামের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপির প্রতিবাদ ও অনুষ্ঠান বর্জনের পরপরই ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে যে, জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ না বলায় ইউএনওকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ইউএনও খাজিদা আক্তারের ছবি এবং বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। কেউ কেউ এই আদেশ প্রত্যাহারের দাবিও করছেন। 

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বদলি কোনো আকস্মিক ঘটনা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছিল না। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে গত বুধবার (২৫ মার্চ) মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে ১০টি উপজেলায় নতুন ইউএনও পদায়ন ও বদলির আদেশ জারি করা হয়। সেই তালিকাতেই খাদিজা আক্তারকে মহেশপুর থেকে বাগেরহাটের চিতলমারীতে বদলি করা হয়েছিল।

২৫ মার্চ খুলনা বিভাগে বদলি হয়েছেন যেসব ইউএনও
খুলনার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, বুধবার (২৫ মার্চ) দুটো আদেশে ১০ জন ইউএনওকে বদলি করা হয়। বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে বদলির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. আমিরুল আরাফাত। 
 
আদেশ অনুযায়ী বদলি ও পদায়নকৃত কর্মকর্তারা হলেন- খাদিজা আক্তার- মহেশপুর (ঝিনাইদহ) থেকে চিতলমারী (বাগেরহাট), শ্যামানন্দ কুণ্ডু- মোল্লাহাট (বাগেরহাট) থেকে আশাশুনি (সাতক্ষীরা), সুজন দাশ গুপ্ত- বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে দিঘলিয়া (খুলনা), আরিফুল ইসলাম- বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তেরখাদা (খুলনা)। পরের আদেশে আরিফুল ইসলামের বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।
 
এছাড়াও মো. সাজ্জাদ হোসেন- বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে কলারোয়া (সাতক্ষীরা), মো. রোকনুজজামান- কুষ্টিয়া সদর থেকে ফকিরহাট (বাগেরহাট), মো. হারুন অর রশিদ- দিঘলিয়া (খুলনা) থেকে কুষ্টিয়া সদর (কুষ্টিয়া), আরাফাত আমান আজিজ-বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে মিরপুর (কুষ্টিয়া), সুমনা আইরিন-ফকিরহাট (বাগেরহাট) থেকে মোল্লাহাট (বাগেরহাট)। 

Khadiza_akter_UNO_ii
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহেশপুরের ইউএনওর বদলি নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে এ বিষয়ে কথা বলতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
 
পরে এ বিষয়ে বদলির আদেশে স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. আমিরুল আরাফাতের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘প্রশাসনিক রদবদল এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মহেশপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বুধবার (২৫ মার্চ) দুটি বদলির আদেশে ১০ জনকে বদলি করা হয়েছে। যারা এটাকে অন্যভাবে দেখছেন, সেই বিষয়ে তারা ভালো বলতে পারবেন। বদলির আদেশের সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক নেই।’ 

অনুষ্ঠান বর্জন ও বিএনপির অভিযোগ 
২৬ মার্চ সকালে মহেশপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন অনুষ্ঠান বর্জন করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠে, ইউএনও খাদিজা আক্তার তার স্বাগত বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেননি। তাকে চিরকুট দেওয়া হলে সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম না থাকায় বলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ইউএনও খাদিজা আক্তার। এজন্য আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে বলেও মত দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা লক্ষ করেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দিষ্ট একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে স্বাগত বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম স্মরণ করেননি। এমনকি তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামও উল্লেখ করেননি। প্রশাসন অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে। এই ন্যক্কারজনক কাজের প্রতিবাদে আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

অবশ্য মহেশপুরের ইউএনওর বদলির আদেশ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে অনেকেই ফেসবুকে এ বিষয়ে প্রতিবাদ, সরকারের সমালোচনা করছেন।

এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, যার নাম সংবিধানে নাই তার নাম না নেওয়ায় ইউএনওকে বদলি করা তো আরেক সংবিধান লংঘন। সালাহউদ্দিন আহমেদের সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান না। 

বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ঢাকা মেইলকে বলেন, ভুল তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এক ধরনের অপরাধ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এমনটা করা তো কোনো দ্বায়িত্বশীল রাজনীতিবিদের কাজ হতে পারে না। ওই  কর্মকর্তার বদলির আদেশ হয়েছে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার পূর্বে। অথচ আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বদলি করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে। এরকম অপপ্রচার যারা করছেন তাদের উদ্দেশ্য অসৎ। এরকম অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতিতে বেশিদূর এগোনো যায় না। 
 
বিইউ/ক.ম