নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
জাতীয় চিড়িয়াখানায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না তা সরেজমিনে যাচাই করতে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী সাধারণ দর্শনার্থীর মতো নিজেই টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচা, প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ সংরক্ষণাগার ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে তিনি প্রাণীদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও দর্শনার্থীসেবাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন: এখনো ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা
পরিদর্শনের শুরুতেই তিনি প্রাণী পুষ্টি শাখায় গিয়ে প্রাণীদের খাবারের মান ও পরিমাণ যাচাই করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচর্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল চিড়িয়াখানার পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও কোথাও কোনো ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না তা সরাসরি দেখা। পাশাপাশি তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়ে মতামত নেন।
এদিন রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে চিড়িয়াখানা ছিল বেশ সরব। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রদর্শনী এলাকায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী চিড়িয়াখানার বেদখল হওয়া প্রায় ৭ একর জমি দ্রুত পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পাবলিক টয়লেট বৃদ্ধি, দর্শনার্থীদের বসার স্থান সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট মেরামত, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং পশুপাখির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। তিনি বর্তমান বাজেটের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ শুরু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আকস্মিক পরিদর্শন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাউকে না জানিয়ে চিড়িয়াখানায় এসে প্রকৃত অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছেন। পরিচ্ছন্নতা, বসার ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নতুন কিছু প্রাণী সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহ সন্তোষজনক হলেও দর্শনার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আরও সংগঠিত, দর্শনার্থীবান্ধব এবং সম্ভাবনাময় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ইতিহাসের শিক্ষা কাজে লাগিয়েই এগোতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনায়: তথ্যমন্ত্রী
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার, চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/এমআই