নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ঈদের ছুটি শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ধীরে ধীরে রাজধানীতে ফিরছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী মানুষ। কর্মস্থলে যোগদানের তাগিদে ভোর থেকেই রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে গাবতলী বাস টার্মিনালে। দূরপাল্লার বাস একের পর এক এসে পৌঁছাচ্ছে, আর প্রতিটি বাসেই রয়েছে যাত্রীদের চাপ। বাস থেকে নেমেই গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। কেউ সিটি বাসে উঠছেন, কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেল রাইডারের সঙ্গে দর কষাকষি করছেন।
ফিরতি যাত্রায় বড় ধরনের যানজট না থাকলেও কেউ কেউ ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন। আবার সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কাও কাজ করছে। তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে বাধ্য হয়ে যাত্রা করছেন সবাই। শনিবার অফিস খোলার দিন হওয়ার আজকে বেশি চাপ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাবতলী এলাকায় সকাল থেকেই ছিল মানুষের আনাগোনা। মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালেও ছিল প্রায় একই চিত্র। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ফিরছেন কর্মস্থলের তাগিদে, আবার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ফিরছেন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে। ভোর থেকেই টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে, যা দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বেড়ে যায়।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফিরতি পথে সড়কে বড় ধরনের যানজট না থাকলেও ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীদের চাহিদা বেশি থাকায় অনেক পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনার খবর যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে যাত্রা অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে কিছুটা শঙ্কার।
ঈশ্বরদী থেকে ঢাকায় ফেরা আল আমিন হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘প্রায় ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে তার যাত্রায়। তবে পথে কোনো যানজটে পড়তে হয়নি। এতে কিছুটা স্বস্তি পেলেও যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।’
মাগুরা থেকে আসা যাত্রী কামাল উদ্দিন ঢাকা মেইলকে জানান, সরাসরি বাসের টিকিট না পেয়ে তাকে কয়েক ধাপে যাত্রা করতে হয়েছে। পদ্মা নদীর ওপার থেকে লোকাল পরিবহনে ঘাটে এসে নদী পার হয়ে আবার অন্য পরিবহনে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে তাকে। এতে সময় যেমন বেশি লেগেছে, তেমনি খরচও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে তার কাছ থেকে। ভাড়ার তালিকা দেখালেও তা মানতে চাননি বাসের সুপারভাইজার। শেষ পর্যন্ত কোনো বিকল্প না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই তাকে যাত্রা করতে হয়েছে।’
এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীদের চাপের কারণে পরিস্থিতি এমন হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সারাদিনই যাত্রীদের চাপ ছিল এবং কোনো বাস ফাঁকা যায়নি। আজ আরও বেশি। ছুটির শেষ সময় আজ এতটু বেশি হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু দূরপাল্লার বাস নয়, স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী পরিবহনেও যাত্রীদের চাপ রয়েছে। অনেকেই ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ফিরছেন। এতে করে শহরের প্রবেশপথগুলোতে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভিড়। বিশেষ করে গাবতলীতে দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীরা যখন স্থানীয় পরিবহনে ওঠার চেষ্টা করছেন, তখন সেখানে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ থেকে বোঝা যায়, মাঠপর্যায়ে এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটি ও পরবর্তী ছুটির কারণে অনেকেই দেরিতে ঢাকায় ফিরছেন। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে টানা কয়েকদিন ছুটি থাকায় মানুষ গ্রামে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এরপর স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হওয়ায় অনেকে কর্মস্থলে ফেরার সময় পিছিয়ে দিয়েছেন। ফলে এখন ধীরে ধীরে রাজধানীতে ফিরছেন তারা।
এএইচ/এমআই