images

জাতীয়

টাইগার বকুলকে দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নারী দর্শনার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় টাইগার বকুলকে দেখতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে মেয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে এই প্রাণীকে ঘিরে আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকেই খাঁচার সামনে ভিড় জমতে শুরু করে, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ঘন হয়ে ওঠে। শক্তিশালী গঠন, গায়ের দাগ এবং আচরণের কারণে টাইগার বকুল দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা যায় ছোট ছোট দল রয়েল বেঙ্গল টাইগার বকুলের খাঁচার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণীটির চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ শুধু মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছেন। বিশেষ করে তরুণী দর্শনার্থীদের মধ্যে এ প্রাণীকে ঘিরে কৌতূহল ও আগ্রহ বেশি চোখে পড়ছে।

pic

দর্শনার্থীরা জানান, তারা আগে কখনও এত কাছ থেকে এমন প্রাণী দেখার সুযোগ পাননি। বকুলের শক্তি, চঞ্চলতা এবং মার্জিত চলাফেরা তাদের মুগ্ধ করেছে। অনেকেই বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন এবং এই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন। তারা বলছেন, ব্যস্ত শহরের জীবনে এমন একটি জায়গা যেখানে এসে কিছুটা সময় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা যায়, সেটি সত্যিই স্বস্তিদায়ক। 

আরও পড়ুন: আফ্রিকান সিংহ দম্পতি দেখতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড়

দর্শনার্থী রুমা খান বলেন, তিনি আগে কখনও এমন প্রাণী কাছ থেকে দেখেননি। বকুলের শক্তি, চঞ্চলতা এবং মার্জিত চলাফেরা তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি জানান, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও করতে করতে সময় কেটে গেছে, যা তার জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

দর্শনার্থী আব্দুল হামিদ জানান, তিনি প্রথমবার টাইগার বকুলকে এত কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি বলেন, ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে করতে সময় কেটে গেছে, এবং এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রকৃতির সঙ্গে আরও কাছে আনে। চিড়িয়াখানায় আসা সত্যিই এক শিক্ষামূলক এবং বিনোদনপূর্ণ মুহূর্ত।

এদিকে চিড়িয়াখানায় আসা অনেক দর্শনার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। টাইগার বকুলকে ঘিরে তোলা ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা আরও নতুন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। 

pic

টাইগার বকুলের খাঁচার পাশে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়টাতে প্রাণীটি তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকায় দর্শকরা এর চলাফেরা এবং আচরণ ভালোভাবে দেখতে পান। খাঁচার পাশে থাকা তথ্যফলক থেকে দর্শনার্থীরা প্রাণীটির খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারা এবং স্বভাব সম্পর্কে জানতে পারছেন। এতে করে ভ্রমণটি শুধু বিনোদনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতায় পরিণত হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে চিড়িয়াখানার কতৃপক্ষও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে খাঁচার আশেপাশে নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রাণী দেখতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এএইচ/এআর