Dhaka Mail Logo

জাতীয়

আফ্রিকান সিংহ দম্পতি দেখতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় আফ্রিকান সিংহ কাপল সুসান ও লিলিকে দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছুটির আমেজে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা খাঁচার সামনে জড়ো হচ্ছেন, যেন কাছ থেকে এই রাজকীয় প্রাণীজোড়ার চলাফেরা উপভোগ করা যায়। তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি, মার্জিত ভঙ্গি এবং একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। পরিবার-পরিজনসহ শিশুদের সঙ্গে অনেকেই এই সিংহ জুটিকে দেখতে আসছেন, যা চিড়িয়াখানার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিংহের খাঁচার সামনে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। দর্শনার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে তাদের চলাফেরা, বিশ্রাম নেওয়া এবং মাঝে মাঝে একে অপরের সঙ্গে খেলা করার দৃশ্য গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন এবং ভিডিও ধারণ করছেন, যেন এই বিশেষ মুহূর্তগুলো সংরক্ষণ করা যায়। শিশুদের মধ্যে কৌতূহল বেশি, তারা খাঁচার দিকে তাকিয়ে সিংহদের আচরণ দেখে নানা প্রশ্ন করছেন।

pic

চিড়িয়াখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা শুধু সিংহ নয়, অন্যান্য প্রাণীর দিকেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে আফ্রিকান সিংহ কাপলের খাঁচার সামনে ভিড় তুলনামূলকভাবে বেশি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়টাতে দর্শকরা সিংহদের সক্রিয় চলাফেরা বেশি দেখতে পান বলে ধারণা করা হয়।

চিড়িয়াখানার কর্মীরা দর্শকদের সিংহের খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন এবং সামাজিক আচরণ সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা খাঁচার পাশে থাকা তথ্যফলক পড়ে সিংহ সম্পর্কে নতুন অনেক কিছু জানতে পারছেন। এতে দর্শনার্থীদের জন্য এটি শুধু বিনোদনের নয়, একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিড়িয়াখানার প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে সিংহের খাঁচার আশেপাশে নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। দর্শকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভিড় সামাল দেওয়া এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

pic

দর্শনার্থীরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সুসান ও লিলিকে দেখছেন এবং ছবি ও ভিডিও তুলছেন। অনেকেই এই মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন, যা চিড়িয়াখানার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই সিংহ কাপল নিয়ে আলাদা আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

দর্শনার্থী হাফিজ উদ্দিন বলেন, তিনি আজ প্রথমবার আফ্রিকান সিংহ দেখেছেন এবং সুসান ও লিলির আচরণ তার কাছে খুবই চমৎকার লেগেছে। তারা একে অপরের পাশে থাকে, কখনও খেলাধুলা করে আবার কখনও দর্শকদের দিকে তাকায়, যা পুরো অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে। শহরের ব্যস্ত জীবনের মধ্যে এমন একটি অভিজ্ঞতা তার কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে।

চিড়িয়াখানার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান, দর্শকরা এখানে আনন্দ করছে এবং পাশাপাশি প্রাণীজগত সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। আফ্রিকান সিংহদের আচরণ, সামাজিক জীবন এবং চলাফেরা কাছ থেকে দেখার মাধ্যমে দর্শকরা অনেক কিছু জানতে পারছেন। শিশুদের জন্য এটি একটি জীবন্ত শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে।

এএইচ/এআর