images

জাতীয়

কুচকাওয়াজ দেখতে দেড় যুগ অপেক্ষা করতে হবে, কখনো ভাবিনি: দর্শনার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

দীর্ঘ দেড় যুগ অর্থাৎ ১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুচকাওয়াজকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ-উৎফুল্ল দেখা দিয়েছে। এতো বছর পর স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ দেখতে পারবে তা অকল্পনীয় ছিলো দর্শনার্থীদের।

‎বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপনে তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ শুরু হয়েছে।

‎জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট দেখতে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে এমন দৃশ্য দেখা যায়। দর্শনার্থীদের বসার জন্য প্লাস্টিকের চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুচকাওয়াজ দেখতে অনেকে মাথায় ও হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এসেছেন।

‎বসিলা এলাকার বাসিন্দা মেহরাব উদ্দিন জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্ঠান দেখতে দীর্ঘ ১৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে তা ভাবিনি। ২০২৪ এর গণঅভুত্থানের পর মাঝখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় দুই বছর কাটিয়ে গেছে। তিনিও স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্ঠানের আয়োজন করেননি। নবনির্বাচিত সরকার এ আয়েজন করার জন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্ত।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এমন অনুষ্ঠানগুলো আমরা পরিবার ও শিশুদের নিয়ে উপভোগ করি বিষয়টি এমন নয়। আমাদের শিশুরা এমন আয়োজন দেখলে আয়োজন সম্পর্কে জানতে চায়। স্বাধীনতা সম্পর্কে তারা জিজ্ঞেস করে আমাদের। তাদের মননে মগজে স্বাধীনতার সেই দিনটি গেঁথে যায়। আমরা চাই প্রতি স্বাধীনতা দিবসে এ অনুষ্ঠানটি সরকার আয়োজন করবে।’

‎আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দা ইফতিয়ার নিশি বলেন, ‘সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ দেখতে এসেছিলাম। সে সময় এ কুচকাওয়াজ ও প্যারেড দেখে আমরা আনন্দ পেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এরপর আর স্বাধীনতা দিবসে এ কুচকাওয়াজ ও প্যারেডের আয়োজন করা হয়নি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আবার আমরা কুচকাওয়াজ দেখতে এসেছি। আজকে ভোর ৬টায় মাঠে চলে এসেছি। এসে দেখি অনেক দর্শনার্থীরা আমার আগেই চলে এসেছে।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘এবার নব নির্বাচিত সরকার নতুন করে আবারও স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ ও প্যারেড পোগ্রাম টি করার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ পাবে। আমাদের শিশুরা এ কুচকাওয়াজ দেখে স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস জানতে চাইবে।’

‎মিরপুর এলাকার বাসিন্দা তপু বর্মন বলেন, ‘আজকে কুচকাওয়াজ দেখতে আমার সন্তানদের নিয়ে এসেছি। তারা আমার পাশে বসে কুচকাওয়াজ দেখছে আর বলছে, ‘বাবা এ দিনে আমাদের দেশে কি হয়েছিলো? কেন এ কুচকাওয়াজ আয়েজন করা হয়েছে? আমি তাদেরকে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন ও স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস শুনিয়েছি। কুচকাওয়াজ দেখতে দেখতে আমার সন্তানরা আমার কাছে আমাদের দেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জানতে পেরেছে এর চেয়ে আনন্দের আর কি আছে। দীর্ঘদিন স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ বন্ধ ছিলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান নবনির্বাচিত সরকার গঠন করেই স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজের আয়োজন করায় তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। অন্তত শিশুরা তাদের শৈশবে এ কুচকাওয়াজ দেখে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে চাইবে।’

২০০৮ সালের পর এই প্রথম ২৬ মার্চের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী যুক্ত হলো। বিগত বছরগুলোতে বিজয় দিবসে এই আয়োজন নিয়মিত থাকলেও স্বাধীনতা দিবসে তা বন্ধ ছিল। দীর্ঘদিন পর এ কুচকাওয়াজ ও প্যারেজ অনুষ্ঠান ফিরে আসায় মানুষের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, শিশুরা এ আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত।

কুচকাওয়াজ ও প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‎এছাড়াও, অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে সশস্ত্র বাহিনীর এ প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

‎একেএস/এমআই