images

জাতীয়

গণপরিবহন সংকটে রাইড শেয়ারিংয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রথম কর্মদিবসে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে হাজারো মানুষ। সকাল থেকেই ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে যাত্রীদের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। তবে রাজধানীতে ফিরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক যাত্রী। মূল কারণ গণপরিবহনের সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, দোলাইপাড়, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন যাত্রীরা। বাস, লেগুনা ও সিটি সার্ভিস কম থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে রাইড শেয়ার ও সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলারের ওপর নির্ভর করছেন। কিন্তু যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকছেন অনেক চালক।

বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রী জাকির হোসেন জানান, বাস থেকে তাকে যাত্রাবাড়ীর দোলাইপাড় এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে খিলগাঁও যেতে রাইড শেয়ার নিতে চাইলে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া দাবি করা হয়। তিনি বলেন, সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার ভাড়া লাগে। কিন্তু এখন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। বাসেও বাড়তি ভাড়া দিয়ে আসতে হয়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা অনেক কষ্টের।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন যাত্রী। তাদের দাবি, ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার সময় যেমন বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে, তেমনি ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় পুলিশ বক্স ও পাবলিক টয়লেট সংলগ্ন খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রী ডাকতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার চালককে। যাত্রী বেশি হওয়ায় সেখানে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী স্ট্যান্ডের মতো পরিবেশ। 

রাইড শেয়ার চালক তানজিম বলেন, ঈদের সময় তেল পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। কষ্ট করে তেল জোগাড় করতে হয়। তাই ভাড়াও একটু বেশি নিতে হয়। আবার ঈদের সময় যাত্রী চাপ বেশি থাকায় দামও কিছুটা বাড়ে। 

রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায়ও যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে গণপরিবহনের জন্য। 

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে চালকদের দাবি, যাত্রী চাপ, যানজট ও জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। 

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের ফিরে আসা অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনও গণপরিবহন সংকট ও বাড়তি ভাড়ার এই চাপ কিছুটা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

এমআর/ক.ম