images

জাতীয়

যাত্রীবাহী প্রাইভেটকার চালকদের মাথায় হাত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

গাবতলী বাস টার্মিনালের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনের সড়কের ফুটপাতে বেঞ্চে বসে আছেন রবিউল। তিনি প্রাইভেটকারে যাত্রী টানেন। কিন্তু সকাল থেকে অলস বসেই সময় কাটছে তার। কোনো যাত্রী পাননি। 

শুধু রবিউল নন, তার মতো আরও কয়েকজন বসে আছেন যাত্রীর অপেক্ষায়। কিন্তু যাত্রী মিলছে না। তারা জানালেন, সকাল থেকে কোনো যাত্রী নেই। রোববার (২২ মার্চ) ভালো যাত্রী পেয়েছিলেন। কিন্তু আজ মন্দা। ফলে বসেই সময় কাটছে তাদের। 

তারা আরও জানালেন, অ্যাপসে ভাড়া পান না। কারণ তাদের অধিকাংশ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও কাগজপত্র নেই। ফলে তারা অ্যাপসে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন না। পাঠাওয়ের মতো রাইড পরিবহনের অ্যাপসে যুক্ত থাকলে হয়তো যাত্রী পেতেন।      

সামি নামে এক চালক জানালেন, রোববার (২২ মার্চ) কিছু লোকজন পেয়েছিলেন। তার আগের দিন ঈদে লোকজন তাদের গাড়িতে ঢাকায় ঘোরাফেরা করেছেন। ফলে সেদিনও যাত্রী ভালোই ছিল। কিন্তু আজ কোনো যাত্রী পাচ্ছেন না। ফলে হাঁকডাক করছেন। 

10

তার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন কয়েকজন চালক ফুটপাত ধরে টার্মিনালের দিকে যাওয়া যাত্রীদের থামিয়ে কথা বলছিলেন। পরে সেই যাত্রীরা যাবেন না বলে জানালে তারা হতাশ হয়ে আবারও বেঞ্চে এসে বসেন। 

দেখা গেল, গাবতলী বাস টার্মিনালের পশ্চিম পাশে ফুটপাতের কোল ঘেঁষে সারি করে ১০ থেকে ১২টি প্রাইভেটকার রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা সকাল থেকে কোনো ভাড়া পাননি। কারণ যাত্রীর চাপ কম। ঢাকায় লোকজনও কম ঢুকছে। 

তবে সেখানে সিএনজি চালকদের পোয়াবারো। তারা কোনো যাত্রী বাস থেকে নামলেই ছুটে যাচ্ছেন। যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে দরদামে মিলে গেলে যাত্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন গন্তব্যে। 

প্রাইভেটকার চালকরা বলছেন, তারা সহজে বাসের কাছে যেতে পারেন না। কারণ একটি বাস এসে দাঁড়ালে আরেক পাশে প্রাইভেটকার দাঁড়ালে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ট্রাফিক সদস্যরা ছুটে আসেন, জরিমানা করেন। ফলে প্রাইভেটকার এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে যাত্রী খুঁজতে হয় তাদের। 

তবে এই চালকরা আশাবাদী, আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে তাদের আয়ের চাকা আবারও সচল হবে। কারণ ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে। ফলে লোকজনও ঢাকায় ফিরবে। আবারও সুগম হবে তাদের আয়ের পথ। 

এমআইকে/এএইচ