জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে অনেকে। আবার কেউ কেউ ঢাকা ছাড়ছেন। সব মিলে ঈদের আমেজে ঢাকায় ঢোকা এবং ছাড়ার প্রতিযোগিতা চলছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা সরজমিনে দেখা গেছে, ঢাকায় ঢোকার চেয়ে ঢাকা ছাড়ার সংখ্যা কিছুটা বেশি।
রাবেয়া পরিবহনের চালকের সহকারী (হেলপার) মোস্তফা ঢাকা মেইলকে জানান, তারা অন্যদিন সকাল থেকে ১৮ থেকে ২০টা গাড়ি ছাড়েন। কিন্তু আজ গাড়ি ছেড়েছেন মাত্র ৮ থেকে ৯টি। এসব বাসের অধিকাংশ ঢাকা টু বগুড়া যাতায়াত করে।’
শুভ বসুন্ধরা পরিবহনের চালকের সহকারী (হেলপার) জিয়া বলেন, ‘যাত্রী কমে গেছে। গতকাল প্রচুর ভিড় ছিল। সকাল থেকে মাত্র ৫টা গাড়ি ছেড়েছি। আরেকটা ছাড়ার অপেক্ষায়।’
আরও পড়ুন: আজও নাড়ির টানে গ্রামে ছুটছেন অনেকে
গাবতলী বাস টার্মিনালের পশ্চিম পাশে ট্রাফিক বক্সের সামনের রাস্তায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন সামি নামের এক যুবক। তার গন্তব্যে নাটোরে। তিনি জানান, ঈদে অসুস্থ ছিলেন ফলে বাড়িতে যেতে পারেননি৷ আজ যাচ্ছেন। তবে কাউন্টারের বাসগুলো ছেড়ে যাওয়ায় এখন চলন্ত বাস খুঁজছেন।
তিনি আরও জানান, আজ লোকজনের চাপ কম। ফলে তার মতো অসুস্থ লোকের পক্ষে যাওয়া সহজ বলে মনে করেন তিনি।
শুভ বসুন্ধরা বাসের চালকের সহকারী (হেলপার) আব্দুস সালাম বলেন, ‘যাত্রী কম। তবে লোকজন বাড়ি যাচ্ছে। গতকাল অনেক যাত্রী পেয়েছিলাম।’
গাবতলী বাস টার্মিনালে দুপুর ১২টা থেকে যাত্রীর হাঁকডাক শুরু হয়েছে। সৌহার্দ্য পরিবহণে যাত্রী তোলার জন্য আজিজুল ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছেন। অবশ্য পেয়েও যাচ্ছেন। সব মিলে তার একটি গাড়ি অর্ধেক যাত্রী ভরাতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।
টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরে ঢাকায় ফেরা লোকজনের চেয়ে ঢাকা ছাড়ছে এমন লোকজন বেশি। বাসের কাউন্টারগুলোতে তেমন ভিড় নেই। কেউ টিকিট খুঁজলে সহজে পেয়েও যাচ্ছেন। টিকিটের দাম একদিন আগেও বেশি রাখার অভিযোগ ছিল। কিন্তু আজ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন টিকিট বিক্রেতারা।
কুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী লালন শাহ পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে যাত্রী ডাকছে হেলপার। পরে একজন যাত্রী তুলে সামনের দিকে এগিয়ে আবারও গাবতলী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী হাঁকডাক শুরু করলেন তিনি। সব মিলে গাড়িতে দুই তিনজন ছাড়া তেমন যাত্রী ছিল না।
গাবতলী বাস টার্মিনালে আজ তেমন ভিড় নেই। তবে দুপুরে বেলা বাড়ার সাথে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। তাদের টার্গেট তারা দুপুরে না হলে বিকেলের গাড়িতে রওনা হবেন। তবে যারা এই মুহূর্তে বাস টার্মিনালে আসছেন তারা প্রত্যেকে গাড়িও পাচ্ছেন। আজ টিকিটের দাম নিয়ে তেমন তর্কে যেতে হচ্ছে না যাত্রীদের।
এমআইকে/এমআই