নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০২৬, ১১:২৪ এএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকা জুড়ে দোকানপাটে দেখা যাচ্ছে ছুটির আবহ। ঈদের আগের ব্যস্ততা কাটিয়ে অধিকাংশ ব্যবসায়ী এখনো পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানীর বাইরে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি দোকানের স্টাফরাও ছুটিতে আছেন। ফলে বড় শপিংমল থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অনেক দোকানেই তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এতে ঈদের পরপরই কেনাকাটা করতে আসা কিছু ক্রেতাকে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বড় শপিংমলগুলোর অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে। একই দৃশ্য মহল্লার দোকানগুলো। কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
রাজধানীর পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল ও যাত্রাবাড়ী এলাকাতে বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এসব এলাকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমেও কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রয়েছে। ফলে ঈদের পরের প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় এসে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ছোট দোকানের ওপর নির্ভর করছেন।
কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগের টানা ব্যস্ততার পর কর্মীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ায় কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে কিছু দোকান আরও কয়েকদিন বন্ধ থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আশপাশের কিছু ছোট দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। এসব দোকানের মালিকরা জানান, চাঁদরাত পর্যন্ত টানা বেচাকেনার চাপ সামলাতে হয়েছে। তাই কর্মীদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে অনেকেই এখন দোকান বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ নিজেরাই দোকান খুললেও তেমন ক্রেতা পাচ্ছেন না।

যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী জাফর হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বেচাবিক্রিও স্বাভাবিক নেই। যারা শহরে আছেন, তাদের অনেকেই বেড়ানো বা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় সময় কাটাচ্ছেন। এতে মার্কেট দোকানপাটে বেচাকেনা নেই বললেই চলে।
পল্টন এলাকার ব্যবসায়ী সাঈদ জানান, বেচাকেনা নেই। ভাবছিলাম ঈদের বেশির ভাগ দোকান বন্ধ থাকে। ফলে দোকান খোলা রাখলে কিছু বেচাকেনা হবে। কিন্তু না তা হচ্ছে না। গ্রামে যাওয়াই ভালো ছিলো।
কাপড় ব্যবসায়ী আমিরুল জানান, ঈদের আগে বিক্রি ভালো হলেও এখন দোকান প্রায় ফাঁকাই থাকে। তার চারজন কর্মী ছুটিতে থাকায় তিনি ও তার ছোট ভাই মিলে সীমিত সময় দোকান চালাচ্ছেন।

এদিকে গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাতের দোকানগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু মহল্লাভিত্তিক দোকানে সীমিতভাবে বেচাকেনা চলছে।
এমআর/এমআই