নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের কোলঘেঁষা শহীদ মতিউর পার্ক পরিণত হয়েছে বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনন্দমুখর মিলনমেলায়। দুপুরের পর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীদের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে পার্কের চারপাশ। বিকাল নাগাদ বাড়তে থাকে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ। রাইডে চড়ার উচ্ছ্বাসে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো পার্ক।
রাজধানীর কেন্দ্রে অবস্থিত এই পার্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ছোট আকারের বিনোদন সুবিধা। ঈদের ছুটিকে ঘিরে তাই অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে এখানে ছুটে এসেছেন আনন্দের কিছু সময় কাটাতে। ব্যস্ত নগরজীবনে যেখানে পরিবার নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ কম, সেখানে ঈদের এই ছুটি হয়ে উঠেছে শিশুদের জন্য বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ।
দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পার্কের ভেতরে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। কেউ সন্তানদের নিয়ে রাইডে উঠছেন, কেউবা পার্কের সবুজ ঘাসে বসে গল্প করছেন। আবার অনেকে পরিবার নিয়ে ছবি তুলতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রাজধানীর নয়াটোলা এলাকা থেকে সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, বাসার কাছেই হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে এখানে চলে এলাম। আমরা বড়রা যেমন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি, এখনকার শিশুরাও পড়াশোনা আর স্কুল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ছুটি খুব কম পায়। তাই ঈদের এই সময়টাতে একটু বাইরে নিয়ে এসে ওদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করি।
একইভাবে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ননদ ও সন্তানদের নিয়ে পার্কে এসেছেন নারগিস আলম। তিনি বলেন, একসময় এই পার্কটা খুব অগোছালো ছিল। ময়লা-আবর্জনার কারণে ভেতরে ঢোকাই কঠিন ছিল। কয়েক বছর আগে সিটি করপোরেশন সংস্কার করার পর এখন অনেক সুন্দর হয়েছে। শিশুদের জন্য কিছু রাইডও বসানো হয়েছে। মাত্র ১০ টাকা টিকিটে ভেতরে ঢোকা যায়—এটা আমাদের মতো পরিবারের জন্য ভালো সুযোগ।
নারগিস আলম বলেন, শহরের ভেতরে এমন একটি জায়গা থাকায় শিশুদের নিয়ে আসতে ভালো লাগে। অন্তত ছুটির দিনে ওরা একটু আনন্দ করতে পারে।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে চলে গেলেও যারা ঢাকায় রয়েছেন, তাদের জন্য শহীদ মতিউর পার্ক হয়ে উঠেছে সহজলভ্য একটি বিনোদনকেন্দ্র। বিশেষ করে শিশুদের উপস্থিতিতে পার্কজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ, যা ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এমন ছোট ছোট বিনোদন আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। তাই ঈদের এই কয়েকটি ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে সন্তানদের নিয়ে এমন উন্মুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা।
এমআর/ক.ম