images

জাতীয়

দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে, যাত্রীর চাপ থাকলেও গাড়ি কম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২২ মার্চ ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। রাজধানীর তিন বাস টার্মিনালে বাড়ি ফিরতে ভিড় করছেন তারা। যাত্রীর চাপ থাকলেও টার্মিনালগুলোতে বাস কম বলে জানা গেছে।

রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ চিত্র দেখা গেছে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। 

যাত্রীরা বলছেন, গাড়ির সংখ্যা খুবই কম। আবার যেগুলো ঢাকা ছাড়ছে সেগুলোর ভাড়া বেশি চাওয়া হচ্ছে। প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতি বছর ঈদের দ্বিতীয় দিন ঢাকা ছাড়ে রাজধানীতে ঈদ করা একটি অংশ। এবারও তার বিচ্যুতি ঘটেনি। সকাল থেকে রাজধানীর লঞ্চ, বাস টার্মিনাল ও ট্রেন স্টেশনেও ভিড় জমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাস টার্মিনালগুলোতে। 

উত্তরাঞ্চলের রুটের গাড়ির সংকট না থাকলেও বরিশাল, সাতক্ষীরা রুটে গাড়ির সংকটের কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। 

যারা বাড়িতে যাচ্ছেন তারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র ব্যবসার কারণে ঈদ ঢাকায় সেরেছেন। ফলে ঈদের আগের দিন বাড়িতে তারা যেতে পারেননি। আবারও কেউ কেউ স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকছেন। আজ গ্রামে বেড়াতে যাচ্ছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সায়েদাবাদে গোল্ডেন লাইন, শ্যামলী পরিবহন, হানিফসহ কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তারা টিকিট খুঁজছেন। কিন্তু বাস কম থাকায় তারা বিপাকে পড়েছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ কেউ যাচ্ছেন গ্রামে বিয়ে খেতে, কেউ মামা, নানা, খালা ও চাচার বাড়িতে ঘুরতে, কেউ কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বোরিং জীবন থেকে নিজেকে চাঙ্গা করতে।

তেমনি একজন গাজীপুরের আহনাফ তাহমিদ। তিনি গাজীপুরে থাকলেও গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায়। তার মামা বাড়িও সেখানে। মামার বিয়ে, বিয়েতে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি। তিনি সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে এসে পড়েন বিপাকে। সাতক্ষীরা রুটের কোনো বাস পাচ্ছেন না। যেগুলো যাচ্ছে সেগুলোর অধিকাংশই যাচ্ছে খুলনা শহরে। ফলে সেখান থেকে ভেঙে যাওয়া কঠিন বলে মনে করেন তিনি।

শুধু সায়েদাবাদ নয়, গাবতলীতেও অনেকে গিয়ে টিকিট পাচ্ছেন না। সেখানেও যাত্রীর চাপ আছে কিন্তু বাস কম। এ টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, অধিকাংশ বাসের টিকিট সকালেই শেষ হয়ে গেছে। টার্মিনালটিতে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, বরিশালসহ বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার জন্য ঘরমুখো মানুষ ভিড় করছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিনেও লোকজন উত্তরে ছুটছেন। ফলে সকাল থেকে তাদের টিকিট বিক্রি ভালো। শ্যামলী পরিবহনের কর্মকর্তা রুবেল বলেন, আজ যাত্রীর চাপ আছে। ফলে সকাল থেকে টিকিটও প্রায় শেষ। সকালে এমন অবস্থা ছিল যাত্রীকে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট দিতে হয়েছে।  

সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের কর্মরত আবু কায়েস শান্ত বলেন, যাত্রীচাপ বেশি থাকায় ২০ মিনিটেই একটি বাসের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, আজ প্রচুর যাত্রী, আধা ঘণ্টা হয়নি একটি বাস ছেড়ে গেছে এবং এর মধ্যেই আরেকটি বাসের সব টিকিট শেষ হয়েছে। মূলত যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরা হয়ে খুলনাগামী যাত্রীই বেশি।

বেসরকারি চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম স্ত্রীকে নিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জে যাবেন বলে জানান। তিনি সকাল সকাল কাউন্টারে এসে কোনো ঝামেলা ছাড়াই টিকিট কাটতে পেরেছেন, তবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গুলিস্তান থেকে যেসব যাত্রী বরগুনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জ, নড়াইল যাচ্ছেন তারাও একই অবস্থায় পড়েছেন।

বরগুনা যাবেন শাহেদ আলম। তিনি বলেন, পরিবার আগেই গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ঈদের পরের দিন এমন পরিস্থিতি হবে বুঝিনি। যাত্রী আর যাত্রী, গাড়ি নেই। দেখি কী করা যায়।

যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে টার্মিনালজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।  

এমআইকে/এএস