images

জাতীয়

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

রমজানের এক মাসের সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগির পর যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব-আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে উদযাপিত হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।
 
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে দেশের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এসময় বিশেষ মোনাজাতে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হয়। 

এদিকে ঈদের দিন দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে নামাজ পড়েছেন মুসল্লিরা।

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে শহর ও গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন পোশাক পরে সবাই আজ আনন্দে মেতে ওঠে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে চলছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি। 

ঈদকে ঘিরে ঘরে ঘরে আজ সেমাই, পায়েস, পোলাওয়ের চাল আর নতুন পোশাকের সুবাস। পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকে ফিরে গেছেন গ্রামে। এক কথায় রাজধানী ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা। এতে নতুন পোশাকে ঈদের নামাজ, মেহেদি উৎসব, সুস্বাদু খাবার এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন, আশ্রয় কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হয়েছে উন্নতমানের খাবার।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এর আগে প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। 

জাতীয় ঈদগাহের জামাতের ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শাান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের পাঁচটি জামাত। 

এছাড়া দেশের প্রতিটি মসজিদ এবং ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের নামাজ। জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্যও দোয়া করেন মুসল্লিরা।

ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এসময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। 

পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

এদিকে ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে ভিড় বাড়ে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে যান রাজধানীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। বিশেষ করে শাহবাগ, রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, টিএসসি, হাতিরঝিল, মিরপুর চিড়িয়াখানা, ধানমন্ডি লেক ও জিয়া উদ্যানসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে ঈদের বিকেলে জামালপুরের একটি দুর্ঘটনা কয়েকটি পরিবারকে আনন্দের বদলে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। এ জেলার দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও এক শিশু। তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

এছাড়া গত কয়েকদিনে ঈদযাত্রায় সদরঘাটের লঞ্চ দুর্ঘটনা, বগুড়ায় মাইক্রোবাস দুর্ঘটনা এবং একাধিক জেলায় বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঈদের খুশি নেই সেসব পরিবারেও। কারও ঘরে খুশি, কারও ঘরে শোক- এটাই হয়তো প্রকৃতির নিয়ম। 

এএইচ