নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ মার্চ ২০২৬, ১০:১২ এএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও প্রাণবন্ত মিলনমেলার পরিবেশ। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা মসজিদমুখী হন। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মসজিদের ভেতরের স্থান পূর্ণ হয়ে যায়, ফলে আশপাশের সড়ক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন হাজারো মানুষ।
পাঞ্জাবি-পায়জামা ও টুপি পরিহিত মুসল্লিদের দীর্ঘ সারি যেন এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয়। অনেকেই পরিবার-পরিজন, শিশু ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের জামাতে অংশ নেন। শিশুদের নতুন পোশাক, হাতে বেলুন কিংবা খেলনা সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ। দীর্ঘদিন পর আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
জামাত শেষে কোলাকুলি আর শুভেচ্ছা বিনিময়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ বন্ধুদের খুঁজে বের করছেন, কেউবা সহকর্মীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে উঠছেন। একে অপরকে ‘ঈদ মোবারক’ জানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই।
মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মো. রাশেদ নামে এক মুসল্লি বলেন, সারা বছর কাজের চাপে অনেকের সঙ্গে দেখা হয় না। ঈদের এই জামাত আমাদের আবার একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এটা শুধু নামাজ নয়, এক ধরনের মিলনমেলা।
আরেক মুসল্লি মাহমুদুল হাসান বলেন, এই মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার একটা আলাদা অনুভূতি আছে। পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে দেখা করার যে আনন্দ, সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
তরুণ মুসল্লি সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আগে থেকেই ঠিক করি দেখা করব। নামাজ শেষে সবাই মিলে সময় কাটানো এটাই ঈদের আসল আনন্দ।
একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মুসল্লি আবদুল করিম বলেন, আগের মতো সেই গ্রামীণ পরিবেশ না থাকলেও এখানে এসে সেই আবহটা কিছুটা পাওয়া যায়। মানুষ এখনো একে অপরের খোঁজ নেয়, এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের একজন সদস্য জানান, মুসল্লিদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, সবার জন্য সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখতে আমরা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করেছি। তারা সার্বক্ষণিকভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেছে।
ঈদের দিনের আবহাওয়া ছিল অনুকূলে, যা মুসল্লিদের উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে দেয়। নামাজের আগে ও পরে আশপাশের এলাকায় যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছিল, তবে সামগ্রিকভাবে পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ।
খুতবায় ইমাম মুসল্লিদের উদ্দেশে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ঈদের মূল শিক্ষা হলো মানুষের মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া, গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
সব মিলিয়ে ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদের ঈদ জামাত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক প্রাণবন্ত সামাজিক মিলনমেলায় রূপ নেয়। যেখানে নামাজের পাশাপাশি মানুষ খুঁজে পায় একে অপরের সান্নিধ্য, ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিনের না দেখা সম্পর্কগুলোর নতুন করে জেগে ওঠার আনন্দ।
এম/এএস