জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
নৌপথের যাত্রীদের জন্য সদরঘাটে এবার ফ্রি কুলি সার্ভিস চালু করেছে সরকার। অথচ এই বিশেষ সেবা নিতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে আগের মতোই অর্থ। যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্রি সার্ভিস বলা হলেও সুবিধাজনক জায়গায় এসে বেঁকে বসেন কুলিরা। তারা যাত্রীদের কাছে দাবি করেন টাকা। রফাদফায় বাধ্য হয়েই টাকা দেন যাত্রারা।
এক যাত্রীর মালামাল কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে একজন কুলি টাকা দাবি করেন। এরপর যাত্রী যে টাকা দেন তাতে সন্তুষ্ট নন কুলি। পরে যাত্রীর কাছ থেকে আরও টাকা আদায় করে নেওয়া হয়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। একটি অনলাইন গণমাধ্যম ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। এতে কুলিকে যাত্রীর কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা আদায়ের দৃশ্য ফুটে উঠে।
পরে অবশ্য কুলি দাবি করেন, খুশি হয়ে যাত্রীরা যা দিয়েছেন সেটি ‘বখশিস’ হিসেবে নিয়েছেন। অথচ এই বখশিসেও এবার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সরকারের।
ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, তাদের কাছে সরাসরিই টাকা চেয়েছেন কুলি। এবং টাকা দিতে তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘোষণা অনুযায়ী যাত্রীদের মালামাল আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে ঈদের দিন ছাড়া আগে-পরে পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিনের ফ্রি কুলি সেবা দেওয়া হচ্ছে সরকারিভাবে।
সদরঘাট সূত্র জানা যায়, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে এখন পিক সময় চলছে। ফলে ভিড়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে সুযোগ নিচ্ছেন কুলিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেটের বাইরে থেকে লঞ্চে উঠা পর্যন্ত সিসিটিভি দ্বারা নজরদারি করা হয়। এই অংশে পুলিশ র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাহিনীর সদসরা নজরদারি করছেন।
যাত্রীরা জানান, মূলত লঞ্চে উঠতে গিয়ে বা উঠার পর বেঁকে বসেন কুলিরা। তখন অন্য কোনো কুলিও এগিয়ে আসেন না। অনেক ক্ষেত্রে কুলিরা অনৈতিকভাবে একে অন্যকে সহযোগিতাও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ বিআইডব্লিউটিএ এসব কুলিকে নিজস্বভাবে মজুরি দিয়ে নিয়োগ দিয়েছে।
সরকারি এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ঈদযাত্রায় যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। এছাড়া যাত্রীদের বাড়তি আনন্দ যোগাতে টাকা এবং বখশিস বিড়ম্বনার ফাঁদ দূর করাই উদ্দেশ্য।
বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের মালামাল বহনের সুবিধার্থে কুলিদের ১০০টি ট্রলি ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ট্রলিগুলো বিমানবন্দর থেকে আনা হয়েছে, যাতে কুলিরা নৈতিকতায় সেবা প্রদান করেন। ঈদ যাত্রার বিশেষ ফ্রি সার্ভিসকে কেন্দ্র করে আনা এসব ট্রলি যাত্রী নিজেরাও ব্যবহার করতে পারছেন।
এদিকে অসুস্থ, অক্ষম ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইল চেয়ারের সংখ্যাও এবার বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সীমিত সংখ্যক হুইল চেয়ার ছিল, অনেকক্ষেত্রেই সেবা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হতো। তবে এবার সদরঘাটের ২০টি গেট এলাকায় মোট ৪০টি হুইল চেয়ার রাখা হবে। এসব ব্যবহারে সহায়তা করছেন নৌ-ক্যাডেট সদস্যরা। গেটে থেকেই এই সেবা পাচ্ছেন বিশেষ ব্যক্তিরা।
এএম/ক.ম