জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ শুরু হবে আগামীকাল সকাল থেকে। এ চাপ বহাল থাকবে ১৯ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত। এরপর সেদিন দুপুর থেকে চাপ কমতে শুরু করবে। তবে রাতে তেমন চাপ থাকবে না। আগামীকাল থেকে পরদিন পর্যন্ত টানা সব বাসের টিকিট বুকিং পূর্ণ হয়ে আছে। ফলে বাড়তি যাত্রী এই দুই দিন বহন করা অধিকাংশ বাসের পক্ষেই কঠিন হবে। এ ছাড়া বাড়তি যাত্রী নিতে চাইলে অতিরিক্ত বাস সংযোজন করতে হবে তাদের।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঘুরে দূরপাল্লার বাস–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তাদের দাবি, আজ যেসব বাস ছাড়তে শুরু করেছে, সেগুলোতেও তেমন টিকিট নেই। প্রতিটি বাসে চার থেকে পাঁচটি করে টিকিট রয়েছে। তবে সেগুলোর সিট বিক্রি করতে হচ্ছে শেষ মুহূর্তে। কেউ কেউ আবার বাসের ইঞ্জিন কভারে বসেই যেতে রাজি হচ্ছেন। তখন তাঁদের সেই সিটও দেওয়া হচ্ছে। তবে বাসের ছাদে কোনো ধরনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। কেউ যেতে চাইলেও তাঁকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
গাবতলী বাস টার্মিনালের ভেতরে থাকা শ্যামলী পরিবহনের এক কাউন্টারম্যান বলেন, আজকের বাসগুলোতে যারা যাচ্ছেন, তাঁদের পেছনের দিকের সিট দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামীকাল থেকে আর কোনো টিকিট দেওয়া হবে না। কারণ আগামী দুই দিনের সব টিকিট আগেই সংরক্ষিত।
সুন্দরবন লাইনের টিকিট বিক্রয়কারী কবির আহমেদ জানান, তাঁদেরও আগামী দুই দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আর ১৮ ও ১৯ মার্চের কোনো টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। তবে কেউ চাইলে দেখা হচ্ছে কোনো বাসের টিকিট ফেরত এসেছে কি না। ফেরত পাওয়া গেলে সেই সিট পূরণ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার অধিকাংশ বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল ৩ মার্চ থেকে। বিক্রি শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো শেষ হয়ে যায়। ফলে যারা টিকিট কাটতে পেরেছেন, তাঁরাই সুযোগটি লুফে নিয়েছেন। আর যারা পারেননি, তাঁরা পড়েছেন বিপাকে।
এর মধ্যেও কিছু যাত্রীকে ১৮ মার্চের টিকিট খুঁজতে দেখা গেছে। তাঁদের একজন আলিফ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাবেন। আগাম টিকিট কাটতে না পারায় মঙ্গলবার বিকেলে টার্মিনালে এসে খোঁজ করেন। তাঁর দাবি, টিকিট পাওয়া যাবে না জানেন, কিন্তু যদি কেউ ফেরত দেন, তাহলে সেটি নিয়েই রওনা হবেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় পর্যন্ত তিনি কোনো টিকিট পাননি।
টার্মিনালের বাস কাউন্টারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামীকাল থেকে ১৯ মার্চ সকাল ১০টা পর্যন্ত যাত্রীদের ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দিতে তাঁরা সেবা দেবেন। এ কারণে নতুন করে আগাম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। তবে সীমিত সংখ্যায় কেউ কেউ টিকিট বিক্রি করছেন।
এমআইকে/এআর