জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। তবে কেউ বাড়তি ভাড়া নিলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাস্তবে এই নির্দেশনা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল থেকে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। অনেকেই আগাম টিকিট কাটতে পারেননি। এই সুযোগে চলন্ত বাসের হেলপার ও সুপারভাইজাররা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিকেল থেকে সন্ধ্যার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সরেজমিনে এর প্রমাণও মিলেছে।
পল্লব সরকার রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আগামীকাল থেকে তাঁর ছুটি শুরু হবে। তাই তিনি বিকেলেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গাবতলী গরুর হাটসংলগ্ন ট্রাফিক অফিসের সামনে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি ও আরেক যুবক।
পল্লব জানান, ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে সাধারণ ভাড়া ২০০ টাকা। তিনি প্রায়ই চলন্ত বাসে বাড়ি যান। কিন্তু এবার তাঁর কাছে ৩০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সিহাবুল যাচ্ছিলেন বগুড়া। গাবতলীতে দাঁড়িয়ে থাকা আরকে ট্রাভেলসের একটি বাসের হেলপারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরদাম করছিলেন তিনি। হেলপার তাঁর কাছে ৬০০ টাকা দাবি করেন। এ সময় চারজন যুবক বাসটিতে উঠে পড়েন। সিহাবুলের সঙ্গে দরদাম না মেলায় বাসটি সামনে এগিয়ে যায়।
সিহাবুল বলেন, ঢাকা থেকে বগুড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় যাওয়া যায়। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ৬০০ টাকার কমে যেতে রাজি না হওয়ায় তিনি ওই বাসে ওঠেননি।
গাবতলী বাস টার্মিনালের জামে মসজিদের সামনে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও কুমারখালীগামী বাসের কর্মীরা যাত্রী ডাকছিলেন।
পাংশায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে আতিকুল ইসলাম সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসের টিকিট বিক্রয়কারীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা বলেন। ওই ব্যক্তি জানান, ঢাকা থেকে পাংশার ভাড়া ৫০০ টাকা চাওয়া হলেও অনেকের কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে আতিকুলের দাবি, এ পথে সাধারণ ভাড়া ৩০০ টাকা।
এদিকে গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাটগামী সেলফি পরিবহনের বাসগুলোতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
শেষ বিকেলে সেলফির একটি বাসের হেলপার যাত্রী ডাকছিলেন ২০০ টাকায় ঘাটে যাওয়ার কথা বলে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ পথে সাধারণ ভাড়া ১৫০ টাকা।
সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে এর আগেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ছিল। গতবার গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত ৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এবার তুলনামূলক কম হলেও ভাড়া ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে বাসের এক হেলপার স্বীকার করেন।
তবে গাবতলী বাস টার্মিনালে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। টার্মিনালের পশ্চিম গেটসংলগ্ন সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা হানিফ পরিবহনের একটি বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন রাসেল আহমেদ।
রাসেল জানান, তিনি নাটোর যাচ্ছেন এবং নির্ধারিত ভাড়াতেই টিকিট পেয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়নি।
টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দু-একটি পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও বাকিরা সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছে।
এমআইকে/এআর