জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
ঈদুল ফিতরের ছুটি পেয়ে গ্রামের ছুটতে শুরু করেছে মানুষ। এ কারণে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর গাবতলীতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলের জেলার রুটগুলোতে চলাচলকারী বাসের কাউন্টারগুলোতে।
মঙ্গলবার বিকেলে গাবতলীর বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, ঘুরমুখো মানুষের ভিড়। তবে ভাসমান কাউন্টার থেকেই তারা টিকিট সংগ্রহ করে রওনা হচ্ছেন গন্তব্যে।
পোশাক কারখানার কর্মী নাজমুল আলম যাবেন সিরাজগঞ্জ এলাকায়। ঈদের ছুটি পেয়ে ইফতারের আগেই বাসস্টেশনে এসেছেন। বাস ধরে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। নাজমুলের মতো অনেকেই এসেছেন গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের প্রধান সড়কের সামনে।
রবিউল ইসলাম স্ত্রী সন্তান এবং শ্যালিকা নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন। তার গন্তব্য পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলায়। চাকরির কারণে আগাম টিকিট কাটতে পারেননি। তার ভরসা ভাসমান কাউন্টার ও চলমান বাসগুলো।
স্ত্রী সন্তান নিয়ে বিআরটিসি ডিপোর সামনে অপেক্ষা করছিলেন রবিউল। তার মতে, বিআরটিসি বাসে গেলে ভাড়া কিছুটা কম দিতে পারবেন।
রুবেল মিয়া ও সুজন যাবেন রংপুরের পাগলাপীরে। বাসের টিকিট এখনো কাটেননি। রুবেল জানালেন, তারা এই মাত্র স্টেশনে এলেন। বাকি বন্ধুরা পথে। তারা এলে একসঙ্গে টিকিট কেটে রওনা হবেন।
তাদের ভাষ্য, আগাম টিকিট কাটতে পারেননি বলে চলন্ত যে বাস যাচ্ছে সেগুলোতে ওঠবেন। তবে কোন বাসে উঠবেন তা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল সোমবার পর্যন্ত দূরপাল্লার বাসগুলোতে টিকিট সংকটের কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু আজ মঙ্গলবার ভিন্ন চিত্র। তারা বলছেন আজকের টিকিট আছে।
শ্যামলী পরিবহনের একটি কাউন্টারে টিকিটের দাম জিজ্ঞেস করছিলেন সোহেল রানা। তার সঙ্গে থাকা আরো দুই নারী সহকর্মী। তাদের সবার বাড়ি পাবনা জেলায়। তিনি বলছিলেন, চাকরি কারণে আগাম টিকিট কাটতে পারি নাই। এখন আসলাম দেখি টিকিট পাই কি না। পরে যেগুলো পেলাম সেগুলোর আবার পেছনে সিট দিতে চায়। ফলে সেই টিকিট নেইনি। দেখি অন্য কাউন্টারে পাই কি না!
শ্যামলীর সেই কাউন্টার ম্যানেজার জানালেন, তাদের সব গাড়িতে আজ পাঁচ-সাতটি করে টিকিট খালি আছে। যারা যেতে চাচ্ছেন তাদের কাছে এসব টিকিট তারা বিক্রি করছেন। তবে সামনের দিকে সিট মিলছে না। অধিকাংশ সিট হচ্ছে পেছনে। এতে যারা রাজি হচ্ছেন তারা টিকিট কিনছেন।
কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর হেলপাররা সমানতালে যাত্রী ডেকে যাচ্ছেন। এর ফাঁকে দামে মিললে কেউ কেউ উঠে রওনা হচ্ছেন সেসব বাসে।
এমআইকে/ক.ম