বোরহান উদ্দিন
১৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই সরকার সবার সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, সবাই এই রাষ্ট্রের নাগরিক। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
সোমবার (১৬মার্চ) গোর-ই শহীদ মাঠে ইফতার পূর্ববর্তী বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
নানাবাড়ি এলাকা দিনাজপুরে নিজের স্মৃতিবিজড়িত শহরে দীর্ঘদিন পর এক সুধী সমাবেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বারবার দিনাজপুরকে তার ‘নানিবাড়ি’ হিসেবে সম্বোধন করেন। ঘাসিপাড়া ও বালুবাড়িতে কাটানো দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন জানি দিনাজপুর বললেই আমার চোখে ‘নানি’ কথাটাই ভেসে আসে। এই শহরের অলিগলিতে আমার অনেক স্মৃতি। স্বাভাবিকভাবেই এই মাটির প্রতি আমার একটা আলাদা টান ও দায়িত্ব রয়েছে।’
তিনি জানান, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই তারা নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে দেশের পানির সংকট নিরসনে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আর্সেনিক সমস্যা সমাধানে খাল ও নদী খনন করে প্রাকৃতিক পানির আধার তৈরি করা অপরিহার্য।’
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘দেশের ২০ কোটি মানুষের অর্ধেকই নারী। তাদের পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের কাছে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও সম্মাননা পাবেন। এই প্রকল্পের পাইলট প্রজেক্ট ইতোমধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনসহ দেশের ১৫টি স্থানে শুরু হয়েছে এবং প্রায় ৩৬ হাজার মানুষকে এর আওতায় আনা হয়েছে।’
ধর্মীয় গুরুদের সামাজিক মর্যাদার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুরা অনেক সময় অর্থকষ্টে থাকেন। তাদের জন্য সরকারি সম্মানীর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে কার্যকর করা শুরু হয়েছে।’
কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্য যেমন- লিচু, আম, আলু ও টমেটো সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
ঈদের পর শিল্প মালিকদের সঙ্গে বসে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলো এক বা দুই মাসে সমাধান করা সম্ভব নয়। এই সরকার সবার সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি সবাই এই রাষ্ট্রের নাগরিক। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
সবশেষে তিনি আবারও দিনাজপুরের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে এবং ‘নানিবাড়ি’ থেকে বিদায় নিয়ে দ্রুতই ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
ইফতারের মঞ্চে ওঠার আগে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২০টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দিনাজপুর জেলা বিএনপি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেএম জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল হালিম, দিনাজপুর চেম্বার অ্যান্ড কর্মাসের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, জেলা জমিয়তে ইসলামীর সভাপতি মতিউর রহমান কাশেমী ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম।
বিইউ/এএইচ