images

জাতীয়

বাড়তে পারে মন্ত্রিসভার কলেবর

বোরহান উদ্দিন

১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯ এএম

# মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে ঈদের পর

# জ্যেষ্ঠ নেতাদেরও দেখা যেতে পারে, আলোচনায় নতুনরাও

# একাধিক দফতর সামলানো মন্ত্রিদের চাপ কমবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের মাস পার হতে চলেছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা দায়িত্ব পালন করছে। তবে এই পরিধি সম্প্রসারণের গুঞ্জন উঠেছে, এবং নতুন কয়েকজন মুখও মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। দলের বর্ষীয়ান নেতাদের পাশাপাশি নতুন সংসদ সদস্যরাও থাকতে পারেন তালিকায়। ঈদুল ফিতরের পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা সরকার জনসেবা ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নিতে পারে। মূলত যেসব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি এবং যেখানে বর্তমানে একক নেতৃত্বে একাধিক দফতর পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। ধারণা করা হচ্ছে, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কয়েকজন উপমন্ত্রীরও পদ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত দুই-তিনজন সংসদ সদস্যকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

News_montrisova_dhakamail

ঈদের পরে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের কথাও আলোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ উপনেতা পদ নিয়ে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনা তালিকায় আছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আরো কিছুদিন থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন আছে। আর উপনেতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানা যায়নি।

এদিকে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার আকার ছিল ৬০-এর র ঘরে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও অনেকটা মায়ের পথ অনুসরণ করে প্রশাসনিক কাজে ভারসাম্য আনতে মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধির দিকে হাঁটছেন বলে জানা গেছে।

বিশেষ করে অর্থ ও পরিকল্পনা, বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র, এবং সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন এই বৃহৎ মন্ত্রণালয়গুলোতে বর্তমানে একজন করে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এই বিপুল কাজের চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব দফতর পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে।

অবশ্য দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্ত্রিসভার সদস্য বাড়ালে ব্যয়ের বড় চাপ তৈরি হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, নাকি আরও সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে তা পুরোটা নির্ভর করছে সরকারপ্রধান তারেক রহমানের ওপরে।

ইতোমধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর ১০ সদস্যের শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদের দুইজনকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে মন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন- মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন হুমায়ূন কবির, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।

মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির দৌড়ে এগিয়ে যারা

জানা গেছে, নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার দৌড়ে বেশ কিছু পরিচিত নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। এদের মধ্যে নোয়াখালী-৩ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু অন্যতম। নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মন্ত্রিসভায় কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তার অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা আছে। 

অন্যদিকে ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমানকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার আলোচনা আছে। তবে রাষ্ট্রপতির আলোচনায় মঈন খানের নামও বাতাসে ভাসছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন তরুণ নেতাকে নিয়ে আলোচনা আছে। যাদের জায়গা হতে পারে মন্ত্রিসভায়।

বিএনপির প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ উপনেতা হিসেবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ড. মোশাররফ সভাপতিত্ব করেছেন।

বর্তমান মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কিছু রদবদল আগেই সম্পন্ন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে।

মেজর হাফিজের স্থলে আহমেদ আযম খানকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি সেক্টরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে একটি দক্ষ প্রশাসনিক টিম গঠন করাই সরকারের আগামী দিনের মূল কৌশল। রমজান শেষে এই নতুন পথচলা শুরু হলে সরকারের কাজের গতি বাড়বে।

মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা সেই। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলে যখন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রতিমন্ত্রী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো কিংবা রদবদল প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। নতুন করে কিছু হবে কি না সে সিদ্ধান্তও তিনিই নেবেন। এ বিষয়ে অন্যদের কথা বলার সুযোগ নেই।’

বিইউ/এমআর