নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিংসহ আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক গ্রাহক পেট্রোল পাম্প থেকে তেল না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে রাজধানীতে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোববার (১৫ মার্চ) থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানানো হলেও বাস্তবে রাজধানীর অনেক পাম্পে পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে পাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি।
রোববার দুপুর ও বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পিকআপ ও দূরপাল্লার বাস-ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। অনেক পাম্পে কয়েক শ মিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি দেখা গেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পাম্প কর্তৃপক্ষ সবাইকে তেল দিতে পারছেন না।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইল এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি পাম্পে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে রাজধানী পেট্রোল পাম্প ও টোটাল গ্যাস সিএনজি ফিলিং স্টেশন এলাকায় বাইক, পিকআপ ও দূরপাল্লার গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক চালক লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
তেল নিতে আসা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ আবার কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর জানতে পারছেন পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ভোগান্তি।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।
রাজধানী ফিলিং স্টেশনের এক ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করে ঢাকা মেইলকে বলেন, ডিজেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টন। কিন্তু তারা পাচ্ছেন মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার টন। একইভাবে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহও প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

তিনি বলেন, আমরা চাইলেও সবাইকে তেল দিতে পারছি না। সরবরাহ কম থাকায় অনেক গ্রাহককে তেল না দিয়েই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকরাও অসন্তুষ্ট হচ্ছেন এবং পাম্পে চাপও বাড়ছে।
অন্যদিকে টোটাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, তাদের পাম্পে অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন অকটেন ও ডিজেলের প্রায় সাড়ে চার হাজার টন চাহিদা রয়েছে। শুধু ডিজেলের চাহিদাই প্রায় ৯ হাজার টনের কাছাকাছি। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ১৮ হাজার টন জ্বালানি প্রয়োজন হলেও সে অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহ কম থাকায় অনেক সময় পাম্পে তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক যানবাহনকে তেল না দিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চালকদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। অনেক চালক আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার পরিবহনের চালকরা বলছেন, নিয়মিত তেল না পেলে তাদের পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এতে পণ্য পরিবহন ও যাত্রীসেবাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে রাজধানীতে এ ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। এজন্য চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
এমআর/জেবি