নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের পুরাতন একশো একর জায়গা থেকে বর্জ্য থেকে উৎপন্ন গ্যাস আহরণ করে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে পনেরো হাজার টন মিথেন সংগ্রহের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এছাড়া সৌরশক্তির ব্যবহার করে আরও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, মাতুয়াইল এলাকায় পাইলট ভিত্তিতে স্থাপিত পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে দৈনিক তিনশো টন গৃহস্থালী বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট, জৈব জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ইট এবং বিশেষ প্রজাতির কীট ও কঠিন জ্বালানি উৎপাদন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকায় ‘ঢাকা পুনঃসম্পদ পার্ক’ নির্মাণের বিস্তারিত মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করা হয়।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দৈনিক উৎপাদিত বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এতে শহরের পরিচ্ছন্নতা বাড়বে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘পরিচ্ছন্ন শহর ও সবুজ শহর’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের জন্য কোরিয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০৯.২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার দুইশো থেকে তিন হাজার পাঁচশো টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে সীমিত জনবল ও বাজেটের মধ্যে শতভাগ পরিচ্ছন্ন সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য বলে জানানো হয়।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে চারটি মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে: পুনঃসম্পদ ধারণা অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অঞ্চলভিত্তিক পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র স্থাপন, কমানো-প্রয়োগ-পুনঃব্যবহার নীতি অনুসরণ এবং বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি করেছে।
প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের পুরাতন একশো একর জায়গা থেকে বর্জ্য থেকে উৎপন্ন গ্যাস আহরণ করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে পনেরো হাজার টন মিথেন সংগ্রহের মাধ্যমে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া সৌরশক্তির ব্যবহার থেকে আরও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাইলট ভিত্তিতে স্থাপিত পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে দৈনিক তিনশো টন গৃহস্থালী বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট, জৈব জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ইট এবং বিশেষ প্রজাতির কীট ও কঠিন জ্বালানি উৎপাদন করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে পাঁচ লাখ পনেরো হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হবে। এটি বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দৈনিক উৎপাদিত সম্পূর্ণ বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে এবং ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণ হবে।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কারিগরি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এআর