images

জাতীয়

দূষণমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার উপযোগী দূষণমুক্ত এবং সবার জন্য সমান সুযোগসম্পন্ন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, নদী দখল, বন নিধন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে দেশের জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ সংক্রান্ত নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমে পরিবেশগত ইস্যুকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘কেমন পরিবেশ চাই’ শীর্ষক এক সংলাপ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সংলাপটির আয়োজন করে সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন।

বক্তারা বলেন, নদী দখল, বন নিধন এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।

আলোচনায় বাংলাদেশের পরিবেশ সংকটের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। এর মধ্যে নদী রক্ষা, বন সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য অবকাঠামোর অভাব উল্লেখযোগ্য। বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিচয় এখন অনেক ক্ষেত্রে কেবল কাগজ-কলম ও সাহিত্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে নিজের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন নাসির আহমেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই, যেখানে আমার মেয়ে বড় হয়ে পরিবেশ রক্ষার জন্য আর সংগ্রাম করতে বাধ্য না হয়।’

সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ‘একজন মানুষ যেন সুস্থভাবে শ্বাস নিতে পারে, ঠিকভাবে ঘুমাতে পারে—বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, আমরা শুধু সেটুকুই চাই।’

নদী ও বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার একদিকে খাল পরিষ্কারের কথা বলছে, আবার অন্যদিকে নদীগুলো ধ্বংস হচ্ছে—এটা আমরা চাই না।’ তিনি টাঙ্গাইলের শালবন রক্ষা এবং খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী নিধনের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভৌত অবকাঠামো সবার জন্য উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থী অপরাজিতা রক্তজবা বলেন, ‘আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ চাই। আমাদের ভবন ও অবকাঠামো কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সাধারণত ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন, তবে এ বিষয়ে গবেষকদের জনসাধারণের সঙ্গে আরও খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।

নগর জীবনের দূষণ ও অবৈধ দখলের চিত্র তুলে ধরে জোবায়ের ইসলাম বলেন, ‘বাদামতলীতে রোজা রেখে পচা ফলের গন্ধ পাওয়া যায়। একটি শহরকে দূষিত করার মতো প্রায় সব উপাদানই সেখানে রয়েছে।’

কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নদী ও খাল দখলের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই গর্ব করে পাঁচতলা ভবনের মালিক হওয়ার কথা বলেন, অথচ সেই জায়গা আসলে খাল বা নদীর জায়গা।

গণমাধ্যমের দায়িত্বের প্রসঙ্গ তুলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ বলেন, দেশের গণমাধ্যমে অপরাধ ও রাজনীতির খবর যতটা গুরুত্ব পায়, পরিবেশের বিষয়টি ততটা গুরুত্ব পায় না।

তিনি বলেন, রাজনীতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নদী দখল, পরিবেশ দূষণ ও উন্মুক্ত জায়গা দখলের মতো বিষয়গুলোতে আরও বেশি সংবাদ কাভারেজ প্রয়োজন।

সংলাপে আয়োজকদের একজন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘কেমন পরিবেশ চাই’ সংলাপের মাধ্যমে জনগণের পরিবেশগত প্রত্যাশা তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিবেশের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা কী—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে এবং জনগণের পরিবেশ অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির লক্ষ্যেই আমরা এই সংলাপ আয়োজন করেছি।’

এএইচ/এআর


--