নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
রাজধানীর গুলশানে গৃহকর্মীকে শারিরীক নির্যাতনে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ গ্রুপের কর্ণধার আবু তাহের রাজুর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের সাধুপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের মেয়ে মোসা. মনিকা (১১) অভিযুক্তের গুলশান নিকেতনের বি ব্লকের ৯৭ নং বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টায় মনিকাকে গলায় ফাঁসরত অবস্থায় দেখা যায়। পরবর্তীতে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নিহতের ভগ্নিপতি মো. শিমুল বলেন, মনিকা আরও ৯-১০ মাস আগে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে ঢাকায় কাজ করতে আসে। ওই বাসায় কাজ করার পরে তাকে সবসময় নির্যাতন করা হতো। এ সময়ের মধ্যে তাকে একবারও বাড়ি যেতে দেওয়া হয়নি। সে মাঝেমধ্যে বাড়িতে ফোন দিয়ে বাড়ি যাওয়ার আকুতি জানালে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যেতো।
তিনি বলেন, গতকাল রাতে মনিকাকে খুন করার পরে ভোরে অভিযুক্ত আবু তাহের রাজু তাদের নেত্রকোনার বাসায় উপস্থিত হয়। সেখানে গিয়ে মনিকার বাবাকে বলে, আপনার মেয়ে গুরুত্বর অসুস্থ। আপনি এখনি আমার সঙ্গে ঢাকায় আসুন। ঢাকায় আসার পরে শুনি মনিকা মারা গেছে।
মনিকার পিতা আব্দুল বারেক বলেন, আমরা ঢাকায় আসার পরে শুনি আমার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। পরে গুলশান থানার এস আই সাদ্দাম একটা সাদা কাগজে আমার তিনটা সই নেয়। কীসের সই জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এগুলো তদন্তের কাজে লাগবে। এছাড়া, তাকে না জানিয়েই তাড়াহুড়ো করে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয় বলে অভিযোগ তার।
এছাড়া তাকে টাকার বিনিময়ে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত আবু তাহের রাজু তাকে নগদ অর্থ ও গ্রামের বাড়িতে ঘর তুলে দেওয়ার আশ্বাসে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
এদিকে এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা গুলশান থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সাদ্দামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাদা কাগজে ৩টি সই নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো কিছু করা হয়নি।
মামলা না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটা অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজন্য নতুন করে আর মামলা নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত আবু তাহের রাজুর নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, যা বলার সেটা পুলিশই বলবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে গুলশান থানার ওসি রাকিবুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এসএইচ/এএইচ