images

জাতীয়

পাম্পের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গে সেনা মোতায়েনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা সচল রাখতে আট দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগের স্কাই সিটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক।

সভাপতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্পগুলো সচল রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিভাজন না করার আহ্বান জানান তিনি। 

নাজমুল হক বলেন, ছোট-বড় সব ফিলিং স্টেশনে সমানভাবে তেল সরবরাহ করতে হবে এবং বিপণন কোম্পানিগুলোকে সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে এজেন্সি, প্যাক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছেও নিয়মিত তেল সরবরাহ চালু রাখার দাবি জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ‘সামাজিক হয়রানি’ বন্ধ করতে হবে। তবে কোনো ফিলিং স্টেশন বা রিভার ভেসেলে অবৈধ মজুত ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তেলের ডিপোগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে, যা পাম্প মালিকরা মেনে চলছেন। তবে একদিকে সরকার পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলছে, অন্যদিকে রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত—এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং পাম্প মালিকদের ভোক্তাদের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে।

পাম্প মালিকদের এই নেতা বলেন, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

নাজমুল হক বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুত করে বা গুজব ছড়িয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে কোনো পাম্প মালিক যদি অনিয়ম করেন বা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে তেল বিক্রি করেন, তবে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাম্প মালিকদের সভাপতি অভিযোগ করেন, মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে পাম্পে অভিযান চালানো হলে তা পাম্প মালিকদের সামাজিক মর্যাদায় আঘাত হানে। অথচ তারা সরকারি লাইসেন্স নিয়ে বিনিয়োগ করে কমিশনভিত্তিক সেবাদানকারী হিসেবে কাজ করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি বা উৎপাদনের সঙ্গে পাম্প মালিকরা জড়িত নন। তারা সরকার থেকে সরবরাহ পাওয়া তেল নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেন। তাই সরবরাহে ঘাটতি বা নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে যদি পাম্পগুলো ভোক্তাদের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতিতে পড়ে, তবে তা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাবে। 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/ক.ম