জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল প্রতীকী উদযাপনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিদ্যমান আইন আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার জবাবদিহিতা এবং সব সম্প্রদায়ের নারী ও কিশোরীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে অধিকার, ন্যায়বিচার ও পদক্ষেপের দাবি বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দিতে হবে, যাতে বাংলাদেশের প্রতিটি নারী ও কিশোরী মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কণ্ঠস্বর নিয়ে বাঁচতে পারে।
রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘হার ভয়েস, হার রাইটস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘সবার জন্য মর্যাদাসম্পন্ন সমঅধিকারই ছিল আমাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ের মূল কথা। কিন্তু দেশে নারীরা বহুবার সাহস, সক্ষমতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিলেও তারা বিভিন্ন সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে বারবার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।’
তিনি আরো বলেন, ‘নারীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে এখনো তাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। অধিকার সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য।’
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ২ হাজার ৮০৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮৬টি ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। এ ছাড়া বর্তমান বা অতীতে বিবাহিত নারীদের ৭২ শতাংশ স্বামীর হাতে সহিংসতার শিকার হয়েছেন, ৬৩ থেকে ৭৮ শতাংশ নারী অনলাইনে সহিংসতার মুখে পড়েছেন, প্রায় ৫১ শতাংশ নারীর বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়ে গেছে, আর দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হলেও সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা মাত্র সাত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার বলেন, ‘শিশুবিবাহ, ধর্ষণ এবং বৈষম্যের নানা রূপের শেকড় নিহিত রয়েছে পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো ও সেই সামাজিক মানসিকতায়, যা এখনো ব্যক্তি ও সমাজের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লড়াই শুধু ১৮ বছর বয়সসীমা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; বড় প্রশ্ন হলো নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে।’
ড. আইনুন নাহার বলেন, ‘প্রকল্প কখনো আন্দোলনের বিকল্প হতে পারে না। সামাজিক পরিবর্তনে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন।’
প্রতিবন্ধী নারীদের বহুমাত্রিক এবং প্রায় অদৃশ্য বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম বলেন, ‘প্রতিবন্ধী নারীরা এখনো জনপরিসরে বঞ্চনা, সীমিত সেবা এবং ব্যাপক সামাজিক অবহেলার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বাস্তব চাহিদা ও কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবলমাত্র সংখ্যার উপস্থিতি হিসেবে দেখা হয়।’
এএম/এফএ