images

জাতীয়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিলেন না প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। উল্টো দাম না বাড়িয়ে কীভাবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সেজন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে এই নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য রহমান অমিত ও জ্বালানি সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে সরকারের ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

তবে ওই প্রস্তাবে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাম বাড়ানোর পরিবর্তে সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখা এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফেরানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে জ্বালানি বিভাগ জানায়, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ দুটি জাহাজে করে ডিজেল দেশে পৌঁছাবে এবং পরে আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন, কোনোভাবেই যাতে জ্বালানি তেলের মজুতদারি না হয়, এজন্য কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের যথেষ্ট মজুত আছে। এ নিয়ে জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের প্রথম দিনে গতকাল শনিবার সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোয় যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ করা গেছে। প্রথম দিন চাহিদামতো তেল দিতে না পেরে রাজধানীর বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের আজ দ্বিতীয় দিনেও সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোয় যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

ফিলিং স্টেশনগুলো বলছে, শুক্র ও শনিবার তেলের ডিপোগুলো বন্ধ ছিল। এজন্য তারা জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারেনি। এ কারণে সংকট দেখা দিয়েছে। তবে  আজ ডিলার, ফিলিং স্টেশন ও ডিপোগুলো থেকে তেল দেওয়া হবে। এতে সংকটও কমে যাবে।

এএম/এফএ