images

জাতীয়

রুফটপ সোলারে জোর: খুলনায় ‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

খুলনায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দুইদিনব্যাপী প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম সম্মেলন ২০২৬। নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় নাগরিক সমাজ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে ৬ ও ৭ মার্চ আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নীতি নিয়ে সমন্বিত আলোচনা করা।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল “Rooftop Revolution: Powering a Just Bangladesh”। এতে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তির স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অংশগ্রহণকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটি-ভিত্তিক শক্তি প্রকল্প এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই শক্তি ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম–এর সদস্য সচিব হাসান মেহেদী বলেন, “গত এক দশকে আবাসিক গ্রিডের বিদ্যুৎ শুল্ক প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ শুল্ক প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ১৪.৬১ টাকা। অন্যদিকে, জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় দেশের রিজার্ভ কমিয়ে প্রায় ২৩.১ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা দিয়ে মাত্র চার মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণ ও ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন একসাথে সম্ভব। স্থানীয় পর্যায়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সচেতনতা তৈরি করা এবং বিদ্যমান ভুল ধারণা দূর করাই এই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।”

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, নারী ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের অধিকার এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করেন। পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগে সোলার প্যানেল স্থাপন ও কমিউনিটি-ভিত্তিক শক্তি প্রকল্পের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন হাসান মেহেদী। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, ফোরাম-খুলনার আহ্বায়ক। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক বেগম রেহানা আখতার, সাজ্জাদুর রহিম পান্থ (উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট) এবং রেখা মারিয়া বৈরাগী (ধ্রুব-এর নির্বাহী পরিচালক)।

আয়োজকরা মনে করেন, বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রীভূত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি করে। তবে উচ্চ প্রাথমিক ব্যয়, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও সম্প্রদায়ভিত্তিক শক্তি ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক ন্যায় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।

এমআর/এআর