images

জাতীয়

‘ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখা যাবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখা যাবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ধীর হয়ে গেছে। জ্বালানি না থাকলে বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে। জ্বালানিসংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা তো কঠিন। লোডশেডিং হলেও তা অসহনীয় হবে না। কিছুটা গ্যাস–সংকট হতে পারে। সংকট নিরসনে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে।

বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, এটি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে বড়। সবাই সহযোগিতা না করলে বিরাট সংকট থেকে উত্তরণ করা কঠিন। যা আছে, তার সাশ্রয়ী ব্যবহার করতে হবে। সবাই সাশ্রয়ী হলে চালিয়ে নেওয়া যাবে।’

ইফতার থেকে তারাবিহ পর্যন্ত এবং সাহ্‌রির সময় লোডশেডিং হবে না বলে সবাইকে নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বাজারে সবাই এখন জ্বালানি সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় আছে। অন্ধকারে যাব নাকি আলোতে থাকব, তা মন্তব্য করা কঠিন। নিয়মিত সরবরাহ কমে যেতে পারে। তাই খোলাবাজার থেকে বাড়তি জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সংকটের ব্যবস্থাপনা এখন প্রধান কাজ। সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ঈদের ছুটির সময়ে শিল্পকারখানার কার্যক্রম কমে গেলে বিদ্যুতের চাহিদাও কমবে, ফলে চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে। বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ রেশনিং করা হবে।’

দেশে হঠাৎ করে ডিজেল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে দাম বেশি থাকায় কিছু পরিমাণ ডিজেল পাচার হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে সীমান্ত অঞ্চলে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় বিক্রি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার শুরু করা হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সংকটের সময় শপিংমলে আলোকসজ্জা করা উচিত নয়। যুদ্ধ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব সমস্যায় রয়েছে। তাই জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ডিজেল পাচার ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকট মার্চ পর্যন্ত চলতে পারে। দেশে যে মজুদ রয়েছে, তা সাশ্রয়ভাবে চলতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে। শপিংমলে আলোকসজ্জা কারা উচিত নয় এ সংকটের সময়ে। যুদ্ধ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় সারাবিশ্ব সমস্যায় রয়েছে।

তিনি বলেন, রেশনিং করে সরকার জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে চায়। বেশি দাম পাওয়ায় বর্ডার দিয়ে জ্বালানি চলে যায়। সেখানে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এখনই লোডশেডিং হবে না। সরকার যেকোনো মূল্যে ইফতার এবং সাহরিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেবে। বৈশ্বিক সংকট হলে সে আচ বাংলাদেশেও পড়বে। তবে এখনই সংকট অসহনীয় হবে না।

এমআর/এএইচ