নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারকে সরকারের অন্যতম প্রধান ভিত্তিমূল হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার জরুরি।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন: স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে নতুন সরকারের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঋণের যে পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে, তা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল অবস্থায় ফেলেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অপচয় রোধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও অপচয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এলডিসি উত্তরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু উত্তরণ নিয়ে আলোচনা নয়, বরং সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমাতে রিনেগোশিয়েশন এবং সিস্টেম লস কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে আর্থিক চাপ কমবে এবং খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পুনঃঅর্থায়নের চেয়ে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ বেশি জরুরি।
‘জ্বালানি খাতে সিস্টেম লস ১০ শতাংশ কমানোর কাজ চলছে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বজনীন মডেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে এবং দারিদ্র্য কমাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
এর আগে আলোচনায় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প ও উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো না হলে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা চালু করতে কেবল ঋণের পুনঃতফসিল নয়, পুনঃঅর্থায়নের উদ্যোগও প্রয়োজন বলে মত দেন তারা। কার্যকর নীতি সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এএইচ/এএস