images

জাতীয়

ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে মানব পাচার, গ্রেফতার ৪

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

রাজধানীতে জাল ভিসায় মানব পাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে জাল ভিসায় মানব পাচার করে আসছিল চক্রটি। তবে বেশির লোকজনকে তারা প্রলোভন দেখাতো। নিতো মোটা অংকের টাকাও। কিন্তু বিদেশ পাঠাতে পারতো না। তাদেরকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে মিরপুরের পাইপপাড়ায় র‌্যাব-৪ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক লে. ক. মাহবুব আলম। 

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন-তারেকুল ইসলাম (৪৫), মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), নেওয়াজ (৪৫) এবং আবু হাসান(৪৮)।

সোমবার উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিরা টিভিআই ট্রাভেলস নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় মানব পাচার করে আসছিলো। ভুক্তভোগী শরীফ মোল্লা (২৮) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পূর্ব পরিচত এবং তাদের মাধ্যমে এজেন্সির বাকি সদস্যদের সাথে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। শরীফ মোল্লা ওনার ভাতিজা ওমর ফারুক, চাচাতো ভাই আবুল কালাম এবং ভাগিনা সাজ্জাদ হোসেনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য গত ১২ মে এবং তার পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে তারেকুল ইসলাম (৪৫) এর পল্লবীর বাসা ও অফিসে গিয়ে যান। তিনি এশিয়া ব্যাংক টিভিআর গ্রুপের হিসাব নম্বরে ৯৪ লাখ টাকা, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। 

তখন গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, কয়েক দিনের মধ্যে তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাবে। অনেক দিন অতিবাহিত হলেও তারা তাদের বিদেশ পাঠাতে না পারায় তারা সেই অফিসে বারবার গিয়ে তাগাদা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে টিভিআই ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা ও টিকিট ইস্যু করে কিন্তু  ভুক্তভোগীরা অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের মাধ্যমে জানতে পারে যে ভিসা ও টিকিট দুইটাই ভূয়া। পরবর্তীতে তারা আরো জানতে পারেন ভিসা প্রদানকারীরা প্রতারক চক্রের সদস্য এবং তাদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে উপরোক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও টাকা ফেরত দিতে বললে বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা যা জানিয়েছে: 

র‌্যাব বলছে, তারা প্রাথমিকভাবে প্রতারণা করার বিষয়টি স্বীকার করেছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশীদের ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।

এমআইকে/এমআই