মো. মেহেদী হাসান হাসিব
০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। গেজেট প্রকাশ ও এমপি-মন্ত্রীদের শপথ শেষে দায়িত্ব গ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলেও এখনো কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফল প্রকাশ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, স্বচ্ছতার নিশ্চয়তার জন্য সময় নিয়ে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল কখন প্রকাশ করা হবে—এমন প্রশ্নে ইসির বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফলাফল সমন্বয়ের কাজ চলমান আছে এবং শেষ হলেই তা আপলোড করা হবে। এমন কথা তারা প্রতিদিনই বলছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় এখনও জানানো সম্ভব হয়নি।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের ফল একীভূত করা হচ্ছে। এজন্য একটু বেশি সময় লাগছে, তবে দ্রুত প্রকাশ করা হবে। এছাড়া কোনো ভুল-ত্রুটি যাতে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, দ্রুত করার চেষ্টা করলে গণভোটের ফল ভুল হতে পারে, যা নিয়ে নানা রকম সমালোচনা হয়েছে। এমন সমালোচনা থেকে বিরত থাকতেই আমরা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল তৈরি করতে সময় নিচ্ছি।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কোনো আইনগত বিধান নেই। কমিশন চাইলে তা প্রকাশ করতে পারে, আবার চাইলে প্রকাশ না-ও করতে পারে। এটি কমিশনের সিদ্ধান্ত। তবে কেউ চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্ধারিত ফি প্রদান করে সার্টিফাইড কপি নিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ মাছউদ ঢাকামেইলকে জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে সকল কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকাশ করতে একটু সময় লাগছে কারণ আমরা স্বচ্ছ থাকতে চাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশে দেরি প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ঢাকামেইলকে বলেন, “একই প্রশ্ন আমারও—তাদের কেন দেরি হচ্ছে? তাদের কাছে তো সব তথ্য আছে, কারণ তারা এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফলাফল প্রকাশ করেছে। আমি কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দিয়েছি। আশা করি দ্রুত তারা ফলাফল প্রকাশ করবেন।”
দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ৪২,৬৫১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হলে এই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন বাতিল হয়েছে। ওই আসনের ১২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়নি, যা আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। একইদিনে বগুড়া-৬ আসনেরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: কোন কোন আসনে গণভোটের হিসাব ভুল হয়েছিল, জানাল ইসি
ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে এবার অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১,৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। প্রার্থীদের মধ্যে নারী ৮৩ জন—দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন। বিএনপির নারী প্রার্থী ১০ জন। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোর কোনো নারী প্রার্থী ছিল না।
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১,২৩২ জন। শেরপুর-৩ আসনের চার লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এবার ভোট দিতে পারেনি। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন—প্রতিটি দল পেয়েছে ১টি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন।
এমএইচএইচ/এআর