images

জাতীয়

সচিবালয় কর্মচারীর ছেলেকে অপহরণ, প্রধানমন্ত্রীর ফোনে উদ্ধার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

বাংলাদেশ সচিবালয়ের এক কর্মচারীর ছেলেকে অপহরণের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফোনে অবশেষে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের শিকার ওই ছাত্র খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে অপহরণ করা হয়। 

অপহরণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রের নাম আফফান সাঈদ। তার বাবা সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম আহমেদ। তিনি সচিবালয়ের কর্মচারী। অপহরণের পর প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে বিকেলে খিলগাঁওয়ের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে ছেলেটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। 
 
পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার সময় স্কুল থেকে বের হওয়ার পর ওই ছাত্র অপহরণের শিকার হন। তাকে চার-পাঁচজন খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকার একটি সাততলা নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। এরপর ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপন চেয়ে তার বাবাকে ফোন করে এবং টাকা না পেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। 

ডিসি মাসুদ আলম জানান, পরে ছেলেটির বাবা কাঁদতে কাঁদতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ঢুকছিল। সেই দৃশ্য দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ফোন করে ডিসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি পুলিশকে নিয়ে বিকেলে সেই ছাত্রকে উদ্ধার করেন। পরে ছেলেটিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।   

image
উদ্ধারের পর পুলিশের সঙ্গে স্কুলছাত্র আফফান সাঈদ। ছবি: ঢাকা মেইল

মাসুদ আলম জানান, ছেলেটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ কৌশলের আশ্রয় নেয়। প্রথমে অপহরণকারীদের টাকা পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। পরে চলে দর কষাকষি। একপর্যায়ে তারা মাত্র ১০ হাজার টাকায় রাজি হয়। এরই মাঝে পুলিশ তাদের অবস্থান জেনে ভবনটি ঘেরাও করে অভিযান চালায়। তবে ওই সময় অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলেটির বাবা যখন কেঁদে কেঁদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ঢুকছিল, সেসময় প্রধানমন্ত্রী এই খবর শুনেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ফোন করে পুলিশকে নির্দেশনা দেন।   

অপহৃত আফফান সাঈদের বাবা শামীম আহমেদ বলেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো আমার সন্তানকে এভাবে ফিরে পেতাম না। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিছু সময় পর আমার শ্যালককে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দ্রুত দিতে বলে। পুলিশ কিংবা কাউকে জানালে আফনানকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। 

এমআইকে/ক.ম