images

জাতীয় / ককপিট

থার্ড টার্মিনালে পার্ক করা যাবে একসঙ্গে ৩৭ বিমান 

বিশেষ প্রতিনিধি

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ এএম

যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন এবং পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) শিগগিরই চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

শাহজালালে বর্তমানে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এই দুটি টার্মিনালের আয়তন এক লাখ বর্গমিটার। তৃতীয় যে টার্মিনালটি চালু হচ্ছে, সেটির আকার বর্তমান দুটি টার্মিনালের দ্বিগুণের বেশি। 

দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার হবে এর আয়তন। থার্ড টার্মিনালে মোট ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিং থাকবে। ফলে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করা যাবে। 

শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে ট্যাক্সিওয়ে আছে চারটি। নতুন করে আরও দুটি হাই স্পিড ট্যাক্সিওয়ে যোগ হওয়ায় কথা।

3rd_terminal

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সেসময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। 

পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ খরচের বেশির ভাগ এসেছে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকার কাছ থেকে। 

প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে। ঢাকা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিটা এবং কোরিয়ার স্যামসাং-এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ করছে। 

বেবিচকের তথ্যানুযায়ী, থার্ড টার্মিনালে থাকবে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ। প্রথম ধাপে চালু করা হবে ১২টি। থাকবে উড়োজাহাজ রাখার জন্য ৩৬টি পার্কিং বে। 

বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস চেকইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেকইন কাউন্টার থাকবে। এছাড়া ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ থাকবে ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার। 

আগমনের ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেকইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট ও ১৯টি চেকইন অ্যারাইভাল কাউন্টার থাকবে। এর বাইরে টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে। 

গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যবস্থা থাকবে এক হাজার ৩৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও পরিচালনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তহীনতা এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এটি চালু করা যায়নি। 

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের বলেছেন, তৃতীয় টার্মিনাল ঠিক কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। 

তবে আমরা টার্মিনালটির কার্যক্রম দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছি এবং পর্যালোচনা করছি। প্রধানমন্ত্রী এটি দ্রুত চালুর বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।

-এমএমএস