নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
পিলখানায় বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বাসা থেকে বিবি হালিমা নামে এক শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটি ওই বাসায় কাজ করতো।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা ৬টায় শিশু হালিমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
বিবি হালিমার বাড়ি কামরাঙ্গীরচরের ভাঙ্গারীর মোচর এলাকায়। তার বাবার নাম শাহ আলম। শিশুটি বিজিবি কর্মকর্তা শরিফুলের কোয়ার্টারে থাকতো।
এ বিষয়ে বিজিবির ওই কর্মকর্তা জানান, আমি এবং আমার স্ত্রী চাকরি করি। আমার ১১ মাস বয়সি একটি শিশু সন্তান রয়েছে। আমার মেয়েটিকে দেখার জন্য হালিমাকে দুই মাস আগে বাসায় রাখা হয়। তার মাও আমার পাশের বাসায় কাজ করে। আজ আমার রানার (সৈনিক) বাজার করে দিয়ে বাসা থেকে চলে আসে। আমার রানার (সৈনিক) জানায়, পরে সে বাজারগুলো ফ্রিজে উঠিয়ে রাখে। এরপর ওই রানার তার রেশন তুলতে যায়। পরে সে রেশন তুলে এসে বাসায় লবণ কিনে আবার বাসায় আসে। তখন আমার বাচ্চাটা একাই খেলছিল। আমার মেয়েকে কোলে নিয়ে রানার হালিমা হালিমা বলে ডাকছিল, কিন্তু তার কোনো সাড়াশব্দ নেই। পরে সে বুঝতে পারে বাথরুমে আছে, অনেক ডাকাডাকি করলেও সে দরজা খোলে না।
তিনি আরও জানান, পরে সে (রানার) আমাকে ফোন দিয়ে বলে, স্যার ১০ মিনিট ধরে আমি দাঁড়িয়ে আছি, হালিমা বাথরুমের দরজা খুলছে না, আপনি দ্রুত আসেন। যেহেতু আমার বাসা পিলখানার ভেতর, আমি দুই-তিন মিনিটের মধ্যে দ্রুত বাসায় চলে যাই। দরজা অনেক হার্ড, আমরা ধাক্কাধাক্কি করি, কিন্তু দরজা খোলে না। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে দরজা ভেঙে দেখে শাওয়ারের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে হালিমা। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন খান বলেন, পিলখানা থেকে মরদেহটি আমরা আজ বিকেল চারটায় উদ্ধার করেছি। গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ছিল। যার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় উনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রী একজন চিকিৎসক। মরদেহটি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।
একেএস/এএইচ