images

জাতীয়

তৈরি হচ্ছে খননযোগ্য খালের ডাটাবেজ, ৪ মন্ত্রণালয় করছে মাস্টারপ্ল্যান

বোরহান উদ্দিন

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ এএম

  • সারাদেশের খালের তালিকা চেয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি
  • প্রতিটি উপজেলা থেকে চাওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ২ খালের তালিকা
  • খনন হবে ২০ হাজার কিমি খাল, লাগানো হবে ২৫ কোটি গাছ
  • ৬ মাসের মধ্যে খননকাজ দৃশ্যমান করার লক্ষ্য

ভূমিধস বিজয়ের পর সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে খাল কাটা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আলোকে সত্তরের দশকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল কাটা কর্মসূচি আবার ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরুর আগে খননযোগ্য খালের তালিকা সংগ্রহ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮০ দিনের, অর্থাৎ ৬ মাসের মধ্যে খাল কাটার কার্যক্রম দৃশ্যমান করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে খাল কাটা কর্মসূচির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার সময় খাল কাটা কর্মসূচি একটি বিপ্লবে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় দেশের খালগুলো নাব্যতা হারিয়েছে, যার ফলে কৃষকরা সেচ সংকটে ভুগছেন এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। আমরা ১৮০ দিনের মধ্যেই এই স্থবিরতা ভাঙতে চাই।

সারা দেশের তালিকা চেয়ে জরুরি চিঠি

এদিকে সরকারের এই অগ্রাধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মো. শামসুজ্জোহা স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে প্রতিটি উপজেলা থেকে খননযোগ্য খালের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সারাদেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ এবং আইনি জটিলতামুক্ত, নিষ্কণ্টক, অন্তত ২টি খালের তথ্য পাঠাতে হবে। এ ছাড়া শুধু খনন নয়, খালের দুই পাড়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের হার্ডকপির পরিবর্তে সরাসরি গুগল ফর্মের মাধ্যমে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।

চার মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ

জানা গেছে, এই বিশাল কর্মসূচি একক কোনো মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়— এই চারটি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছে। শিগগিরই কর্মসূচির চূড়ান্ত সময়সূচি ও বাস্তবায়ন কাঠামো ঘোষণা করা হতে পারে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বাজেটের টিআর, কাবিখা-কাবিটা এবং ইজিপিপি, ইজি পিপি, প্রকল্পের আওতায় এই খননকাজ পরিচালনা করা হবে। এতে করে গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে খননযোগ্য খালের তালিকা তৈরি করে পাঠানো শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি: ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও কৃষি বিপ্লব

এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচিকে আধুনিকায়ন করে দেশের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে।

এর ফলে একসময় যেখানে একটি ফসল হতো, এই কর্মসূচির ফলে সেখানে তিন ফসলের বিপ্লব ঘটবে। শুধু গ্রামীণ কৃষি নয়, বরং ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোর জলাবদ্ধতা নিরসনে হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকবে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিশাল পরিকল্পনা, যা দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও নির্বাচনি ইশতেহারে তুলে ধরেছে বিএনপি।

বিইউ/এআর