নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বাসায় কাজে এসেই কৌশলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় ঘাতক গৃহকর্মীসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁও পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) এডিশনাল ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গৃহকর্মী বিলকিস বেগম ও চোরাই স্বর্ণ ক্রয়কারী জুয়েলারি দোকান মালিক রবিউল আউয়াল।
সংবাদ সম্মেলনে এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা এক নারী মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন। কাজ নেওয়া বাসার কেয়ারটেকারের কাছে নিজের নাম ‘মমতাজ’ এবং বাসার সদস্যদের কাছে ‘মারুফা’ বলে পরিচয় দেন তিনি।
তবে বাসার মালিক তার এনআইডি ও ঠিকানা চাইলে পরে দেবেন বলে জানান। এরপর তিনি কৌশলে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে অচেতন করে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগে গৃহকর্ত্রী আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা। পরে তার ছেলে বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসার মালিকের স্ত্রী-সন্তান বেড়াতে গেলে বাড়িতে একমাত্র বৃদ্ধ দম্পতি আয়শা আক্তার ও আনোয়ার হোসেন ছিলেন। সন্ধ্যায় বড় ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন ফোনে বাবার অসংলগ্ন কথা শুনে বাসায় গিয়ে দেখেন, মা অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন এবং বাবা অসুস্থ হয়ে কাতরাচ্ছেন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আনোয়ার হোসেন বর্তমানে আইসিউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান,পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে দেখেন ঘর এলোমেলো এবং গৃহকর্মী নিখোঁজ। বাসার এক কক্ষ থেকে ৫ ভরি ১০ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, অপর কক্ষ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে।
এ ঘটনায় পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা ৫৬ মিনিটে দেখা যায়, গৃহকর্মী ওই নারী বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর আড়াইটায় একটি পলিথিন ব্যাগ হাতে নিয়ে সে বেরিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আসামি মাত্র দুই দিন আগে ভুয়া পরিচয়ে কাজে যোগ দেয়। তার কোনো ফোন নম্বর বা সঠিক ঠিকানা ছিল না। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। আমরা আসামিকে গ্রেফতার করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পূর্বের মামলার ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করি। এরপর তার বিভিন্ন থানার মামলা থেকে ছবি শনাক্ত করে তার পুত্রবধূকে দেখানো হয়। পরে তার পুত্রবধূ আসামির ছবি দেখে শনাক্ত করে। এরপর আমরা তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হই।
তদন্তে জানা যায়, আসামির প্রকৃত নাম বিলকিস বেগম। তিনি পূর্বেও বিভিন্ন ছদ্মনামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গৃহকর্মী সেজে চেতনানাশক প্রয়োগ করে চুরি করেছেন। খিলক্ষেত, শেরেবাংলা নগর, ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পিবিআইয়ের একাধিক টিম ময়মনসিংহ ও জামালপুরে অভিযান চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে গাজীপুর চৌরাস্তার আউটপাড়া এলাকা থেকে বিলকিসকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
একেএস/এএইচ