Dhaka Mail Logo

জাতীয়

একুশের ছুটিতে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়ে প্রাণবন্ত জিয়া উদ্যান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর জিয়া উদ্যান ভিড় জমিয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে এখানে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যানের মানুষের উপস্থিতি আরো বাড়ছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি দুপুরে উদ্যানের এমন চিত্র দেখা যায়। শহরের কোলাহল থেকে স্বস্তি খুঁজতে অনেকেই বেছে নিয়েছেন এই সবুজ চত্বরকে। কেউ হাঁটাহাঁটি করছেন, কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে পিকনিকের মতো সময় কাটাচ্ছেন। শিশুদের কোলাহল, তরুণদের হাসি-আনন্দ আর বয়োজ্যেষ্ঠদের নিরিবিলি গল্প করার দৃশ্যে পুরো উদ্যান প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে যাওয়ার পথে থাকা নান্দনিক ব্রিজেও দর্শনার্থীরা ছবি তুলতে ভুলছেন না। এই মুহূর্তের স্মৃতি ক্যামেরাবন্দী করতে ভিড় জমেছে।

নাখালপাড়া থেকে মেয়ে, শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রী এবং তাদের শিশুকে নিয়ে এসেছেন শফিকুল আলম। সাত বছরের মেয়ে রাইসা লেকের পানিতে পা নামাতে চান। আবদার মেটাতে মেয়ের হাত ধরে বাবা নিয়ে যান লেকের পানিতে। পেছনে যান তার স্ত্রী ও শ্যালকসহ অন্যরাও।

শফিকুল আলম বলেন, ‘শহরে তো ঘোরার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। যে পার্কগুলো রয়েছে, সেগুলোতে প্রবেশ ফি অনেক। আর রাইডে বাচ্চাদের চড়াতে গেলে বাড়তি টাকা গুনতে হয়। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছি।’

তাদের মতো অনেকেই লেকের পানিতে হাত-পা ভিজিয়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করছেন।

দর্শনার্থীরা জানান, একুশে ফেব্রুয়ারির ছুটির দিনটিকে পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করতে এখানে এসেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সাদিয়া রহমান বলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি। খোলা আকাশের নিচে বসে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগছে।

রায়হান নামে এক অভিভাবক জানান, কর্মব্যস্ত জীবনে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তেমনটা হয় না। তাই ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে উদ্যানেই কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়।

সবমিলিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ আর ছুটির আনন্দের সংমিশ্রণে জিয়া উদ্যানের এই সবুজ চত্বর যেন আজ নতুন প্রাণের আবহ সৃষ্টি করেছে।

এমআইকে/এমআর