তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ইন্টারনেট এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিভাইসে ফাস্ট ইন্টারনেট এখন সময়ের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দাবি দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, ব্লুটুথ বন্ধ করলে ওয়াইফাইয়ের স্পিড অনেক বেড়ে যায়। অনেকেই ইন্টারনেট স্লো হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্লুটুথ অফ করে দেন। কিন্তু সত্যিই কি ব্লুটুথ বন্ধ করলে ওয়াইফাই সুপারফাস্ট হয়ে যায়? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই দাবির পুরো সত্যিটা
ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই দুটিই ওয়্যারলেস প্রযুক্তি এবং কিছু পরিস্থিতিতে দুটিই 2.4GHz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারে। এই কারণেই তাদের মধ্যে ইন্টারফেরেন্স দেখা দিতে পারে। যদি একই সময়ে একাধিক ওয়্যারলেস ডিভাইস একই 2.4GHz ব্যান্ডে কাজ করে, তাহলে নেটওয়ার্কে সামান্য বাধা বা কানেকশনের গুণমানে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এমন জায়গায়, যেখানে আগে থেকেই অনেকগুলি ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক উপলব্ধ থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্লুটুথ অন থাকলেই আপনার ওয়াইফাইয়ের স্পিড অনেক কমে যাবে।
বেশিরভাগ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্লুটুথ বন্ধ করলে ওয়াইফাইয়ের স্পিডে কোনও পরিবর্তন দেখা যায় না। আধুনিক স্মার্টফোন এবং ওয়্যারলেস ডিভাইস এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই একইসঙ্গে ব্যবহার করার সময় ইন্টারফেরেন্স কমানো যায়।

তাই আপনার ওয়াইফাই স্লো চললে শুধু ব্লুটুথ বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কিছু পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি অবশ্যই দেখা যেতে পারে। কিন্তু এর ফলে ওয়াইফাইয়ের স্পিড বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
আপনি যদি পুরনো ডিভাইস ব্যবহার করেন অথবা আপনার ওয়াইফাই মূলত 2.4GHz ব্যান্ডে চলে, তাহলে ব্লুটুথসহ অন্য ওয়্যারলেস ডিভাইসের কারণে হওয়া ইন্টারফেরেন্স কখনও কখনও প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্লুটুথ বন্ধ করে পরীক্ষা করে দেখা একটি সহজ উপায় হতে পারে। কিন্তু যদি কোনও পার্থক্য না দেখা যায়, তাহলে ব্লুটুত বন্ধ রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।
আপনার ইন্টারনেট স্লো হলে ব্লুটুথ বন্ধ করার পরিবর্তে অন্য কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। প্রথমত, রাউটার এবং ফোন দুটিই সাপোর্ট করলে 5GHz ওয়াইফাইতে কানেক্ট করুন। দ্বিতীয়ত, রাউটার এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে তার আশপাশে বেশি দেওয়াল বা ইলেকট্রনিক বাধা না থাকে। রাউটার বন্ধ আলমারির ভিতরে রাখলেও সিগন্যালের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
এর পাশাপাশি রাউটার রিস্টার্ট করা, অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলোকে নেটওয়ার্ক থেকে ডিসকানেক্ট করা এবং প্রয়োজন হলে ওয়াইফাই চ্যানেল পরিবর্তন করাও উপকারী হতে পারে। ব্লুটুথ বন্ধ করলে প্রতিটি ফোনে ওয়াইফাই সুপারফাস্ট হয়ে যাবে না। দুটি প্রযুক্তির মধ্যে কিছু পরিস্থিতিতে ইন্টারফেরেন্স সম্ভব। কিন্তু স্বাভাবিক ব্যবহারে এর প্রভাব এতটা বড় হয় না যে, ব্লুটুথ বন্ধ করলেই ইন্টারনেটের স্পিড কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
এজেড