মো. মেহেদী হাসান হাসিব
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আগামী ২ মার্চ প্রতি বছরের মতো জাতীয় ভোটার দিবস পালন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদের স্পিকার কিংবা আইনমন্ত্রীকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের প্রধানদেরও দাওয়াত দেবে ইসি।
ইসি সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই এবার ভোটার দিবস পালিত হবে। এজন্য নতুন সরকারের কোনো একজন প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের প্রধানদের নিয়ে একটু আলাদা রকমভাবে ভোটার দিবস আয়োজন করা হবে। এছাড়া রোজার মধ্যে পড়ায় প্রতিবারের মতো গতানুগতিক আয়োজন করা হবে না। কিছুটা পরিবর্তন থাকবে। ভোটার দিবস ২ মার্চের পরিবর্তে আগের মতো ১ মার্চ উদযাপন করা যায় কি না সে বিষয়ে কমিশনে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করে ইসির এক কর্মকর্তা জানান, এবার রোজার মধ্যে ভোটার দিবস—এ বিষয়টি বিবেচনা করেই আমরা সবকিছু করব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ব্যান্ড পার্টিসহ বর্ণাঢ্য র্যালি করা হতে পারে, তবে তা সীমিত আকারে। র্যালিতে সবার জন্য একই ধরনের টি-শার্ট ও ক্যাপ থাকবে। এছাড়া আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি/জাতীয় সংসদের স্পিকার/আইনমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। এছাড়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। যেসব দেশে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেসব দেশের দূতাবাস প্রধানদের আলোচনায় যুক্ত করা হতে পারে। অষ্টম জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী নির্বাচন ভবন, ইটিআই ভবন এবং বাগানসহ ফোয়ারা চত্বরে বর্ণিল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি কাজের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ১০টি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইতোমধ্যে ‘৮ম জাতীয় ভোটার দিবস’ যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। ইসি সচিবালয়ে সিনিয়র সচিবকে সভাপতি করে ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি দিবসের কর্মসূচির কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ, দিবসের প্রতিপাদ্য (থিম) নির্ধারণ, মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান ও তদারকিকরণ করবে। এছাড়া দিবসের ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ, উদযাপনের ব্যয় নির্বাহের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়-প্রাক্কলন তৈরি করাসহ বিভিন্ন সাব-কমিটি গঠন এবং যেকোনো কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করার কাজ করবে এ কমিটি।

ইসি আরও জানায়, বিভাগ পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারকে সভাপতি করে ২৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা। ফরিদপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ২৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন এসব অঞ্চলের সদর জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে ২৯ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে ২৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।
ভোটার দিবসে এসব কমিটি যে দায়িত্ব পালন করবে এর মধ্যে রয়েছে- দিবসটি উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয় সাধন; কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন; ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা; সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধকরণ, গণসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রচার কাজে মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়কে সম্পৃক্ত করা এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রদত্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষ নির্দেশাবলি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আগামী ২ মার্চ পবিত্র রমজান থাকায় এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছরের ভোটার দিবস উৎযাপন করা হবে। যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনে যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৩ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচন বিষয়ক সংগঠন ফেমবোসার চতুর্থ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপরই মূলত জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস উদযাপনের একটি প্রস্তাব কমিশন সভায় উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে এবং নীতিগতভাবে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রথমে ১ মার্চ ভোটার দিবস পালন করা হলেও ২০২০ সালে ভোটার দিবসকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস ঘোষণা করে ২ মার্চকে ভোটার দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এমএইচএইচ/জেবি