মো. মেহেদী হাসান হাসিব
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে মুখ্য ভূমিকা রাখা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনও সন্তুষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, তারা জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন। সেই ওয়াদা তারা পূরণ করেছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এমপিদের শপথ পড়ানোর বিষয়ে চিঠি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা মেইলকে সিইসি এসব কথা বলেন।
একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিলেন, একই সঙ্গে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথও পড়াবেন, এ ব্যাপারে আপনার অনুভূতি কেমন-জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, একটা সুন্দর নির্বাচন হয়েছে, জাতিকে সুন্দর নির্বাচন ওয়াদা দিয়েছিলাম, সুন্দর নির্বাচন হয়েছে, এটাই আমার অনূভুতি। অন্য কোনো বক্তব্য নাই।
এমপিদের শপথ পড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল শপথ পড়ানোর পর অনূভুতিটা জানাতে পারব।
নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন ওয়াদ করেছিলাম সুন্দর নির্বাচনের, তা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।
এর আগে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা নিশ্চিত করেন, সকাল ১০টা থেকে শপথ কক্ষে শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে কয়েক দফায় হতে পারে। গ্রুপ ধরে এলে গ্রুপভিত্তিক হবে।

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণত আগের সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু পদত্যাগ না করলেও তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে পদে বহাল রয়েছেন বলে গণ্য করা হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এমপিদের শপথ পড়াতে সিইসিকে চিঠি
সংবিধানের ১৪৮(১) ও ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ পাঠের বিধান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হচ্ছে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ। এতে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তাঁর মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে না পারলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
এছাড়া সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ানোর ক্ষমতা রাখেন।
এমএইচএইচ/জেবি