images

জাতীয়

তিন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতেই পারিনি

মোস্তফা ইমরুল কায়েস

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

২০০৮ সালে ভোট দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আর ভোট দিতে পারিনি। আগে তো আসতেই পারি নাই। আসারও দরকার ছিল না। এবার আসলাম ভোট দিতে। খুব ভালো লাগছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি ভাওয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার আগে লাইনে দাঁড়িয়ে এভাবে নিজের অভিব্যক্তি জানাচ্ছিলেন লীনা।

শুধু লীনা নন, তার সঙ্গে লাইনে থাকা অন্যান্য নারীরাও একই কথা জানালেন।

তারা বললেন, আগের চেয়ে এখনকার পরিবেশ ভালো। আগে তো কেউ আইতেই পারি নাই।

জবেদা বলছিলেন, হাসিনা সরকার আসার পর আর ভোট দিতে পারি নাই। আগে আসলে বলতো আপনার ভোট হয়ে গেছে।

এর আগে ২০০৮ সালে এই কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলেন। এবার এসেছেন একই প্রতীকে তারা ভোট দেবেন বলে জানালেন তারা।

সুমাইয়া আক্তার পড়াশোনা করেন নয়াবাজার কলেজে। জীবনে প্রথম ভোটার হয়ে ভোট দিতে এসেছেন।

তিনি বলছিলেন, খুব ভালো লাগছে ভোট দিতে এসে৷ কোানা ধরনের ভয়ভীতি তিনি অনুভব করছেন না বলে জানান।

V2

কেন্দ্রটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেল, পাঁচটি বুথে ভোট গ্রহণ চলছে। দুই তলা ভবনের ওপরে পুরুষদের তিনটি ও নিচে নারীদের দুটি লাইন করা হয়েছে। সনাতন ধর্মের নারীদের জন্য আলাদা কক্ষও চোখে পড়লো। পরে জানা গেল, ভাওয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে থাকা গ্রামটিতে অনেক হিন্দু পরিবারের বসবাস। তাদের মধ্যে ৫০০ এর মতো ভোটার রয়েছে।

আটি ভাওয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ২ হাজার ৭৫৮ এর বেশি। তবে সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৫২০টি। নির্দিষ্ট সময়ে সকল ভোটার ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল আলম মাসুদ।

ঘাটারচর কেন্দ্রের ভোটার হালিমা আক্তার বলেন, ২০১৮ ভোটার হইছিলাম কিন্তু তখন থেকে আর ভোট দিবার পারি নাই। এবার ভোটটা দিয়া ঈদের খুশির মতো লাগতাছে।

V3

একই কেন্দ্রে বাবা ও ছেলে ভোট দিতে এসেছেন। তারা জানালেন, এবার ভোটের পরিবেশ খুব ভালো।

কেন্দ্রটিতে পুরুষ ভোটারের লাইন দীর্ঘ। তবে সকাল ৯টা থেকে নারী ভোটাররা আসতে শুরু করেছে। প্রতিটি বুথে ভোটারদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ হাজার ৫০০ প্রিজাইডিং অফিসার তালাত মাহমুদ মিঠু সকাল ৯টার দিকে দাবি করেন ৪৫০-এর বেশি ভোট তার কেন্দ্রে পড়েছে।সকালের দিকে ভোটারের চাপ ছিল।

এমআইকে/এফএ