নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
এ বছরও সরকারি ব্যয়ে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা ব্যক্তিকে হজে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তবে হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক, মনিটরিং, মেডিকেল ও আইটি টিম হজ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে যাবেন বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ধর্ম উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হজ ব্যবস্থাপনায় খরচ নির্বাহ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ হিসেবে গত বছর হাজীদের প্রায় ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএম খাতে জমা থাকা হজ এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টদের প্রায় ৩৮ কোটি টাকা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় তিনটি নতুন সেবা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাব্বাইক মোবাইল অ্যাপ, যার মাধ্যমে হাজীদের অবস্থান ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে, মোবাইল ফোন রোমিং সুবিধা এবং হজ প্রিপেইড কার্ড। এসব উদ্যোগ হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ ও নিরাপদ করেছে। এ সফল ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি সরকার বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, এ বছর হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ‘শাস্ত্রী প্যাকেজ’ ঘোষণা করা হয়েছে, যার খরচ ৪ লাখ ৭৭ হাজার ১৬৭ টাকা। এখন পর্যন্ত হজের প্রস্তুতি সন্তোষজনক রয়েছে এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া ও পরিবহন চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
হজ ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে সফল আলোচনার মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খাতে আরও ১০০ সৌদি রিয়াল সাশ্রয় করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সৌদি ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যে মেডিকেল সার্ভিসের জন্য হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল নির্ধারিত ছিল, তা এবার বাংলাদেশের সব হাজি বিনামূল্যে পাচ্ছেন। এ সুবিধা আলোচনার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী ২০২৬ সালের হজে প্যাকেজ এক ও দুইয়ের হাজীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার আশা করছে সরকার। বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের ফলে এ সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি মসজিদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মডেল মসজিদ নীতিমালাও চূড়ান্ত হয়েছে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে উন্নয়ন কাজের কথা উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা জানান, সেখানে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, জেনারেটর, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ওজুখানা সংস্কার, কার্পেট পরিবর্তনসহ নানা উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনে ১৯৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনবল নিয়োগ, জেলা-উপজেলায় ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ নির্মাণ, ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার এবং বিদেশে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন ধর্ম উপদেষ্টা।
এএইচ/এমআই