images

জাতীয়

শেষ হচ্ছে প্রচার, এবার অপেক্ষা ব্যালট যুদ্ধের

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আজকের রাত পোহালেই শেষ হবে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিলের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারকার্য শেষ করতে হবে। সেই মতো মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

এরপরই শুরু হবে ব্যালট যুদ্ধের অপেক্ষা। সেই যুদ্ধ শুরু হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে, চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। সেখানে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ সম্পর্কে রায় দেবেন ভোটাররা।

অন্যান্য বারের তুলনায় এবার কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যদিয়ে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সতর্ক পাহারায় থাকবে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ছাড়াও নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং বিজিবির সদস্যরাও।

ভোটগ্রহণ শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হবে গণনা। এবার জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং গণভোট যেহেতু একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, সে কারণে ভোট গণনায় সময় একটু বেশি লাগতে পারে বলে কিছুদিন আগে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

2

সেই অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের পরদিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর নাগাদ মোটামুটি ফলাফল প্রকাশ হতে পারে যে, কোন দল বসতে যাচ্ছে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দেশের অন্যতম বৃহত্তর দল বিএনপি, নাকি প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামী? চূড়ান্ত ফলাফল পেতে শুক্রবার সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার সেই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাধ্যমে এবার বহু বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি সকল কার্যক্রম চলছে। ভোটাররা অপেক্ষায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য, যেটি গত ১৬ বছর হাসিনা সরকার করতে দেয়নি বলে অভিযোগ।

এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না পতিত আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা পলাতক। অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দি। ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। দুটি দলই একাধিক দলকে কাছে টেনে জোটবদ্ধ হয়েছে।

ফলে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সারাদেশে নির্বাচনি আমেজ। যার সমাপ্তি ঘটবে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ এবং পরদিন ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে। সেই সময়ের অপেক্ষায় সারাদেশের মানুষ। অপেক্ষায় বাংলাদেশের ব্যবসায়িক এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও।

এএইচ