ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২০ পিএম
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)–এর মর্যাদাপূর্ণ ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের তরুণ অভিযাত্রী ইকরামুল হাসান শাকিলের এভারেস্ট জয়ের একটি ছবি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইউএনডিপি অফিসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ছবিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইউএনডিপির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশ শর্ট ভিডিও বিভাগে প্রথম এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অ্যান্ড ডোনার এনগেজমেন্ট বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইয়ুথ অ্যাডভোকেট হিসেবে শাকিল গত বছর প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও এসডিজি বাস্তবায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী এক অভিযানে নামেন। ‘সাগর থেকে শিখরে’ শিরোনামের এই উদ্যোগে তিনি কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে পায়ে হেঁটে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন। পুরো যাত্রাজুড়ে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা তৈরিই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের কমিউনিকেশন প্রধান মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম বলেন, শাকিলের এই ঐতিহাসিক অভিযানের সাক্ষী হতে পেরে আমরা গর্বিত। তাঁর এই প্রচেষ্টা তিন দেশে যৌথভাবে প্লাস্টিক দূষণ রোধে কার্যকর বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
শাকিলের যাত্রা শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও পঞ্চগড় হয়ে তিনি হেঁটে বাংলাদেশ অতিক্রম করেন। জ্বালানির ব্যবহার কমাতে তিনি সাঁতরে পার হন প্রায় তিন কিলোমিটার প্রশস্ত যমুনা নদী। এরপর ভারত পেরিয়ে ৩১ মার্চ পৌঁছান নেপালে।
টানা ১ হাজার ৩৭২ কিলোমিটার হাঁটার পর ২৯ এপ্রিল, ৬৪ দিনে তিনি পৌঁছান এভারেস্ট বেসক্যাম্পে। ৬ মে রোটেশনে ক্যাম্প–৩ পর্যন্ত উঠে আবার বেসক্যাম্পে ফিরে আসেন। পরে ১৬ মে শুরু হয় চূড়ান্ত আরোহন। ধাপে ধাপে ক্যাম্প–২, ৩ ও ৪ অতিক্রম করে ১৯ মে নেপাল সময় ভোর সাড়ে ছয়টায় বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পা রাখেন তিনি।
পরিবেশ সচেতনতার বার্তা বহন করা সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবিটিই এবার এনে দিল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে, এই পুরস্কারকে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনারও এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।