ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্ত উত্তেজনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মতো জটিল বাস্তবতায় গণমাধ্যম কীভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে—সে বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (IQAC)-এর উদ্যোগে এবং সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (SGF) ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মিডিয়া কনক্লেভের প্রতিপাদ্য ছিল— “দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি: গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার দর্পণে একটি পর্যবেক্ষণ।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি)দ সংলাপটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শ্যামলাল কলেজে অনুষ্ঠিত হয়।
এই সংলাপে অংশ নেন সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট রাজু লামা, সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রহমান, ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. অনিরুদ্ধ শুধাংশু, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবীসহ সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি দিল্লিভিত্তিক একাধিক থিংক ট্যাংকের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরাও আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ্যামলাল কলেজের অধ্যক্ষ ও আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নচিকেতা সিং। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক সংঘাত, উগ্রবাদ, জলবায়ু সংকট ও দারিদ্র্য—সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, এই জটিল বাস্তবতাকে জনগণের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বজ্ঞানহীন বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিপরীতে, তথ্যভিত্তিক, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
বক্তারা আরও সতর্ক করে বলেন, ফেক নিউজ, গুজব ও ডিজিটাল প্রপাগান্ডার এই যুগে সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতার গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শুধু সামাজিক অস্থিরতা নয়, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের উচিত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া।
সংঘাত উসকে দেওয়া নয়, বরং সংঘাতের মূল কারণ, প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য সমাধানের পথ তুলে ধরাই হওয়া উচিত গণমাধ্যমের প্রধান লক্ষ্য—এমন অভিমত দেন আলোচকরা। তারা মনে করেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়লে সীমান্তপারের ভুল বোঝাবুঝি ও অবিশ্বাস অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংলাপ ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা গেলে দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক বিশ্বাস, শান্তি ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
/এএস