images

জাতীয়

ভবনের নিরাপত্তায় ড্রোন ব্যবহার করবে ইসি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণের সময় নির্বাচন ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ড্রোন ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দিচ্ছে সংস্থাটি।

ইসি সূত্র জানায়,  অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্তমান সময় একটু বেশি ক্রিটিক্যাল। আগে কখনো ভবনের নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হয়নি। তবে এবার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনে ইসি ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, সারাদেশে ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া অন্য কেউ এ ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের বিদ্যমান সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করাসহ যে যে ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নেই সেসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে সরকার সিসি ক্যামেরা স্থাপনে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। সবদিক বিবেচনায় এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।


এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাইবার মনিটরিং সেল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেলসহ একাধিক মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। যারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ড্রোন দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা করা যাবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসীদের প্রতি মানবিক না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনে  আমরা মানবিক হব; কিন্তু যারা ভাঙচুর, সহিংসতা, হত্যা করে, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১ লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্ট গার্ডের ৪ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, র‍্যাবের ৯ হাজার, পুলিশের প্রায় দেড় লাখ এবং আনসার বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ইসির জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ এর ধারা ৯(চ) তে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণের সময় কোনো প্রকার ড্রোন, কোয়াডকপ্টার (Quadcopter) বা এইরূপ যন্ত্র ব্যবহার করিতে পারিবেন না।

ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এবার ভোটকক্ষের (বুথ) সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। গড়ে প্রতি ৩ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি আরও জানিয়েছে, ওই দিন নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, একই দিনে দুটি ভোট আয়োজনের কারণে বুথ ও ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ব্যালট গণনায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৪৪ হাজারের মতো ভোটকেন্দ্র ছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্র ছিল, ভোটকক্ষ ছিল ২ লক্ষাধিক। দশম সংসদ নির্বাচনে ৩৭ হাজার ৭০৭টি ভোটকেন্দ্র ছিল; ভোটকক্ষ ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮টি। নবম সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র ছিল ৩৫ হাজার ২৬৩টি; ভোটকক্ষ ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৭টি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন।


এমএইচএইচ/এফএ