images

জাতীয়

বিএনপির দাবিতে বিএনসিসি মোতায়েনে পরিবর্তন আনল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নির্বাচনি কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলেও বিএনপির দাবির পরও নির্দেশনায় সংশোধন এনে শুধু পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন (ইসি)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংশোধিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

এতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে (ঙঈঠ এবং ওঈচঠ) প্রদত্ত পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় রিটার্নিং অফিসার/প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে সহযোগিতা প্রদানের নিমিত্ত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেট মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

এক্ষেত্রে বিএনসিসির ক্যাডেটদেরকে নিম্নোক্ত নির্দেশনার আলোকে মোতায়েন করতে হবে;

(ক) রেজিমেন্ট কমান্ডারগণ রিটার্নিং অফিসার এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বিএনসিসি মোতায়েন করবে;

(খ) নির্বাচনি দায়িত্বপ্রদানের পূর্বে বিএনসিসি ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিস্টতা যাচাই-বাছাই করে মোতায়েন করতে হবে;

(গ) সর্বোচ্চ ৩টি নির্বাচনি এলাকার জন্য ১ (এক) টি করে সেকশন (১জন কর্পোরাল ও ১০জন ক্যাডেট) হারে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার জন্য সর্বমোট ১২৩ সেকশন বিএনসিসি মোতায়েন করতে হবে (পরিশিষ্ট ক)। এছাড়া ভোটগ্রহণের পূর্বের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ও পরিস্থিতি প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং পরিবেশন কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিএনসিসি এর ৫টি সেকশন মোতায়েন করতে হবে।

(ঘ) রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মোতায়েনকৃত ক্যাডেটগণ ভোটগ্রহণের পূর্বের দিন হতে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ভোটগ্রহণের পূর্বের দিন হতে চুড়ান্ত বেসমারিক ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত দায়িত্বপালন করবে;

(৪) মোতায়েনকৃত ক্যাডেটগণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোন রাজনৈতিক দল বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না; এবং

(চ) ক্যাডেটদের নির্বাচনি দায়িত্বপালনের নিমিত্ত নিয়োগ প্রদানের পূর্বে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে রেজিমেন্ট কমান্ডারগণ রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসারগণের সাথে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

এতে আরও বলা হয়, বিএনসিসির ক্যাডেটদের ব্যয় চাহিদা প্রাপ্তি সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট হতে সংস্থান করা হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিএনসিসির ক্যাডেট মোতায়েন এবং মোতয়েনের পূর্বে প্রশিক্ষণ প্রদানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রধানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এরপর গত ১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, বিএনসিসির ক্যাডেটরা তরুণ ও ছাত্র। তাদের নির্বাচনের কার্যক্রমে যুক্ত করলে তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা চাই নির্বাচনের মতো রাজনৈতিক জটিল প্রক্রিয়া যেন তাদের যুক্ত না করা হয়। আমরা চাই আইনশৃংখলা বাহিনী বলতে আইনে যাদের নাম আছে তারা যাতে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত থাকে।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি জারি কর এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছিল-এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ বিএনসিসির ক্যাডেট মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে ভোটে যে দায়িত্ব পালন করবেন বিএনসিসি ক্যাডেটরা- ভোটকেন্দ্রে আগত ভোটারগণকে সারিবদ্ধ রাখা এবং ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করা। অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবর্তী ভোটারগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করা।

ভোটপ্রদানে আগত ভোটারদের ভোটকক্ষ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ। রিটার্নিং অফিসার/প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশে নির্বাচনি কাজে সহযোগিতা করা।

এমএইচএইচ/এএইচ