নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৪ এএম
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দারিদ্র্য কমানোর প্রমাণভিত্তিক উপায় পাওয়া গেলে তাদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো সম্ভব হবে। বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি প্রতিবন্ধী মানুষ আছে, যারা অন্যান্য মানুষের তুলনায় বেশি দারিদ্র্যের শিকার। তারা প্রায়ই শিক্ষাব্যবস্থা ও সুষ্ঠু কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত থাকে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধিতার কারণে যে অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তা সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথভাবে পূরণ করা হয় না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং প্রোগ্রাম ফর এভিডেন্স টু ইনফর্ম ডিজ্যাবিলিটি অ্যাকশন আয়োজিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিনে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দারিদ্র্য কমাতে কোন উদ্যোগগুলো কার্যকর—তা বোঝার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের প্রতিবন্ধিতা গবেষণার সহযোগী অধ্যাপক ড. মরগন ব্যাংকস বলেন, প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের শ্রমবাজার থেকে বাদ দিলে বারোটি দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের এক থেকে আট শতাংশ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের পড়াশোনা ও কর্মসংস্থান থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা অপ্রতিবন্ধী তরুণদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। তবুও বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান উন্নয়নে কোন পদক্ষেপগুলো কার্যকর—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণভিত্তিক তথ্য খুবই কম।
ড. ব্যাংকস দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা এবং বেকার প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ব্র্যাকের স্টার প্লাস কর্মসূচির প্রমাণভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে অংশগ্রহণের ফলে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, শক্তিশালী প্রমাণভিত্তিক তথ্য না থাকায় সরকার, নীতি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়, তখন তা প্রায়ই ফলপ্রসূ ও সাশ্রয়ী হয় না। তাই অন্তর্ভুক্তির ধারণা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, অন্তর্ভুক্তি মানে মানুষকে তাদের অক্ষমতা দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা নয়; বরং তারা কীভাবে অবদান রাখতে পারে, সেটির স্বীকৃতি দেওয়া। যখন প্রতিবন্ধকতা বা ব্যবধানগুলো সঠিকভাবে দূর করা হয়, তখন তাদের অবদানের সুযোগও আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া ব্রিটিশ হাই কমিশনের সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা তাহেরা জাবিন বলেন, যুক্তরাজ্য প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা প্রমাণভিত্তিক তথ্য তৈরি করতে বিনিয়োগ করছি, যা অংশীদার ও নীতিনির্ধারকরা ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা ও জীবিকার সুযোগ আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রতিবন্ধিতা ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করা শিক্ষাবিদ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন, নীতিনির্ধারক, নীতি বাস্তবায়নকারী ও দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একত্রিত হয়। সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবিকার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য কমানোর জন্য প্রমাণভিত্তিক তথ্য ও কৌশল তুলে ধরা হয় এবং আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় আলোচনা করা হয়।
এএইচ/এএস